পাহাড়ের বৈচিত্র্য, সমতলের ঐতিহ্য আর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে রাঙ্গামাটিতে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন সাজিয়েছে রিজার্ভ বাজারের শ্রীশ্রী গীতাশ্রম মন্দির। এবার ১০০টি প্রতিমার মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে পূজার পৌরাণিক কাহিনির পাশাপাশি ছয়টি জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
আয়োজকদের ভাষ্য, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর গরাইয়া নৃত্য, গুর্খা জনগোষ্ঠীর টিকা লাগাউনে উৎসব এবং মণিপুরীদের রাস নৃত্যের পাশাপাশি হাজং, কোচ ও সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতিও প্রতিমার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সনাতন ধর্ম পালনকারী এসব জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণ ও ঐতিহ্য অনেকের কাছে পরিচিত নয়। তাদের সংস্কৃতি সবার সামনে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ।
এবারের আয়োজনের আরেকটি আকর্ষণ দুর্গার প্রতীকী উপস্থাপন। সংসারের নানা দায়িত্ব সামলে নারীর বহুমুখী ভূমিকার সঙ্গে দেবী দুর্গার দশ হাতের প্রতীকের যোগসূত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন আয়োজকরা। এর মধ্য দিয়ে ধর্মীয় উপস্থাপনার পাশাপাশি নারীর জীবন ও দায়িত্বের সামাজিক বার্তাও তুলে ধরা হবে।
হিন্দু পুরাণের কাহিনি অনুসারে, রাবণ বধের উদ্দেশ্যে শ্রীরামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন। দেবতাদের নিদ্রাকালে দেবীকে জাগিয়ে পূজা করার কারণে এর নাম হয় অকালবোধন। এই পৌরাণিক কাহিনিও থাকছে মণ্ডপের উপস্থাপনায়। পাশাপাশি মহালয়ায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কালজয়ী চণ্ডীপাঠের আবহ, ঢাক-ঢোল ও ধুনুচি নাচের আয়োজন থাকছে। পাহাড় ও গ্রামবাংলার জীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মিলিয়ে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ।
গীতাশ্রম দুর্গোৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর হোড় বলেন, ১০০ প্রতিমার আয়োজন দর্শনার্থীদের পূজার আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের শেকড়ের গল্প জানাবে। পাহাড়ের বৈচিত্র্য, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সনাতনী সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরতেই প্রতিবছরের মতো এবারও ভিন্ন আয়োজন করা হয়েছে।
পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাজু শীল বলেন, পূজার আয়োজনে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় দিকগুলোও উপস্থাপন করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় এবার ৪৭টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে জেলা শহরে রয়েছে ১৬টি মন্দির। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা পূজা ফ্রন্টের আহ্বায়ক নন্দিতা দাশ বলেন, মণ্ডপগুলোর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। গীতাশ্রমের ১০০ প্রতিমার আয়োজন তার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।
এদিকে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো কাজ করছে। রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, পোশাকধারী পুলিশ, মোবাইল টিম, ট্রাফিক পুলিশ, ডিবি ও ডিএসবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।




