হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর—সিআইআইডির বি ও সি-শিফটের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট, হোয়াইটেনিং সিরাম, জর্দা ও বিদেশি মদ আটক করা হয়েছে।একদিনে পরিচালিত এসব অভিযানে আটক পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা।

সিআইআইডি সূত্র জানিয়েছে, মহাপরিচালকের কাছে পাওয়া নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজে তল্লাশি চালানো হয়।

দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮৪ ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালায় সিআইআইডির বি-শিফট।গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় যাত্রী মো. হিমেলের ব্যাগেজে তল্লাশি চালিয়ে ২৭০ কার্টন সিগারেট এবং ১ দশমিক ২৪ কেজি হোয়াইটেনিং সিরাম উদ্ধার করা হয়।একই ফ্লাইটের অপর যাত্রী শারমিন আক্তারের কাছ থেকেও আরও ২৭০ কার্টন সিগারেট আটক করা হয়।

অর্থাৎ বি-শিফটের অভিযানে মোট ৫৪০ কার্টন সিগারেট এবং ১ দশমিক ২৪ কেজি হোয়াইটেনিং সিরাম আটক করা হয়েছে। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে সিআইআইডির সি-শিফটও পৃথক অভিযান পরিচালনা করে।দিল্লি থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৭ ফ্লাইটে নজরদারি চালায় সি-শিফটের কর্মকর্তারা। রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে ফ্লাইটটি শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর যাত্রী মহাথি হাসান বাবুর ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়।তল্লাশিতে তার কাছ থেকে ৩১ কার্টন সিগারেট এবং ১৩২ পিস হোয়াইটেনিং সিরাম আটক করা হয়।

একই ফ্লাইটের আরেক যাত্রী সোহদুল হাসান শাকিলের কাছ থেকে ৫৪ কার্টন সিগারেট, ১৪৪ পিস হোয়াইটেনিং সিরাম এবং ৩ কেজি জর্দা উদ্ধার করা হয়।এ ছাড়া কাতার থেকে আসা কিউআর-৬৪০ ফ্লাইটের যাত্রী রফিকুল সারদারের ব্যাগ তল্লাশি করে ৩ লিটার বিদেশি মদ আটক করা হয়।সিআইআইডির দেওয়া সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, সি-শিফটের অভিযানে মোট ৮৫ কার্টন সিগারেট, ২৭৬ পিস হোয়াইটেনিং সিরাম, ৫ কেজি জর্দা এবং ৩ লিটার বিদেশি মদ আটক করা হয়েছে। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা।

অর্থাৎ সিআইআইডির বি ও সি-শিফটের পৃথক অভিযানে একদিনে সব মিলিয়ে ৬২৫ কার্টন বিদেশি সিগারেটের পাশাপাশি হোয়াইটেনিং সিরাম, জর্দা ও বিদেশি মদ আটক করা হয়েছে। এসব পণ্যের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে শাহজালাল বিমানবন্দরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালানো হচ্ছে।সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও শুল্ক ফাঁকির পণ্য আটক করা হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।