যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দেওয়া শর্তগুলো মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) নতুন প্রধান মোহসেন রেজাই।

মঙ্গলবার তেহরানে চীনের রাষ্ট্রদূত জং পিউয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ অবস্থানের কথা জানান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

রেজাই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান ও দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ইরানের জব্দ করা অর্থও ছাড়তে হবে।

তিনি বলেন, ওয়াশিংটন আচরণ পরিবর্তন করে তেহরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি পুনরায় পুরোপুরি খুলবে না। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও কয়েকটি শর্ত জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ওমানের সঙ্গে জাহাজ চলাচল নিয়ে কোনো সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধের বিষয়ে ইরানের সিদ্ধান্তে তার প্রভাব পড়বে না বলে স্পষ্ট করেছেন রেজাই।

এদিকে প্রণালিটি পুনরায় চালুর জন্য মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানকে রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে চাপ তৈরি হয়েছে।

রেজাই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুদ্ধ ও অবরোধ বন্ধ, ইরানের জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি—সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে।

চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনাও করেন রেজাই। একই সঙ্গে ইরান-চীন কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূতও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেন। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের চার দফা উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।