নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

বুধবার সকালে ভোতেকোশি নদীতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে নেপালের তিনটি জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে লহেন্দে নদীর প্রবাহ তুষারধসে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপে আটকে যায়। পরে সেই পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত ভোতেকোশি নদীতে নেমে এসে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাসুয়া জেলার তিমুরে বাজার। মুহূর্তের মধ্যে বাজারের বড় একটি অংশ পানির তোড়ে ভেসে যায়। সীমান্তের কাস্টমস চেকপোস্টে অপেক্ষমাণ ৩০০টির বেশি গাড়ি ও ট্রাকও বন্যার পানিতে ভেসে যায়।

বন্যায় অন্তত ৯টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, ৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা, ১৯টি যান চলাচলযোগ্য সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও সরকারি অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৪৪ জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন।

আগাম সতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন
এই দুর্যোগের পর নেপালের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যার উৎপত্তিস্থল তিব্বতে হওয়ায় নেপালের স্থানীয় প্রশাসন আগে থেকে পর্যাপ্ত তথ্য পায়নি।

বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বুধবার সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে বন্যার খবর পাওয়া যায়। মাত্র চার মিনিটের মধ্যে নিম্নাঞ্চলে সতর্কবার্তা পাঠানো হলেও ততক্ষণে বন্যার পানি রাসুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় পৌঁছে যায়।

উজানে স্থাপিত স্বয়ংক্রিয় বন্যা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোও পানির তোড়ে ভেসে যাওয়ায় সেগুলো কোনো সতর্কবার্তা পাঠাতে পারেনি। তবে নুওয়াকোটসহ নদীর নিম্নাঞ্চলে সতর্কবার্তা পৌঁছানোর কারণে কয়েক শ মানুষ নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

চীনের সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের উদ্যোগ
বন্যার পর নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগ এবং চীনের আবহাওয়া প্রশাসনের কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে চীন জানিয়েছে, সীমান্তের চীনা অংশে নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে দ্রুত নেপালকে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

নেপাল ও চীনের মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলা ও তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে ২০১৯ সালে একটি সমঝোতা স্মারকও রয়েছে। তবে এবারের বন্যা দেখিয়ে দিয়েছে, সীমান্তের ওপারে সৃষ্ট আকস্মিক দুর্যোগ সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় রিয়েল-টাইম সেন্সর, ক্যামেরা ও উন্নত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। পাশাপাশি তুষারধস, হিমবাহ বা নদীর প্রবাহে আকস্মিক পরিবর্তনের তথ্য দ্রুত নিচের দিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ, দুর্যোগ আঘাত হানার পর উদ্ধারকাজের চেয়ে দুর্যোগের আগেই মানুষকে সতর্ক করা বেশি কার্যকর।