বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সহজ করতে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর দাবি করেছে ইরান।শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই জানান, প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নির্ধারিত পথের মানচিত্র নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শেষে একটি সমঝোতা হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম দেফা প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জাহাজ চলাচলের রুট নির্ধারণের বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চুক্তির খসড়া তৈরি থেকে শুরু করে স্বাক্ষর প্রক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেতৃত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও আলোচনায় অংশ নেয়।

তবে এখন পর্যন্ত ইরান কিংবা ওমান—কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশ করেনি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কয়েকটি বিষয় এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সেগুলোর সমাধান হলে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে।

ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি ওমান উপসাগরকে পারস্য উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ হওয়া জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ ব্যবহার করে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। তিনি ইরানকে পরাজিত করার পর প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছিলেন।এই বক্তব্যের পরপরই তেহরান ও মাসকাটের মধ্যে সমঝোতার খবর সামনে এলো।

ইরানের দাবি, দুই উপকূলীয় দেশের এই সমঝোতা তাদের নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হরমুজে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং দুই দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা।

তবে চুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে অঞ্চলটির সামরিক পরিস্থিতির ওপর। ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা, নৌ অবরোধ ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে একাধিকবার সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন এই ইরান-ওমান সমঝোতাকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।