আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি)। এ লক্ষ্যে ‘উইমেনস হেলথ ইনিশিয়েটিভ’ কর্মসূচিতে ২৫০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসে শনিবার ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় এ উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ‘নারী স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবার সহনশীলতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক সভায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
কর্মসূচির আওতায় মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি প্রসূতিসেবা এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা উন্নত করা হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, জেলা হাসপাতালের সক্ষমতা, রোগী স্থানান্তর, রেফারেল ও নিবিড় পরিচর্যাসেবা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। মহামারি ও অন্যান্য জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও বাড়ানো হবে।
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ইআইবি ও ইউএনএফপিএর সহযোগিতা এ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার মনে করেন, এ বিনিয়োগ চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া একটি ব্যবস্থায় রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা নারীর স্বাস্থ্যে বিনিয়োগকে পরিবার, সমাজ ও অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করেন। ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কিটাও নারীস্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নের ঘাটতি পূরণে উদ্যোগটির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় জিডিপির ১ শতাংশ থেকে পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকারের কথাও সভায় জানানো হয়। পাশাপাশি এক লাখ কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যাঁদের ৮০ শতাংশ নারী। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিকে কর্মসূচির কারিগরি সহায়তার জন্য ইউএনএফপিএ অন্তত ২৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সহায়তাও এতে যুক্ত হওয়ার কথা।
বড় অঙ্কের এই বিনিয়োগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করার ওপর। নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্য অর্জন করা গেলে নারী ও কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য ও মাতৃসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।