একসময় বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীদের ক্যারিয়ারের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করত পর্দায় নিয়মিত উপস্থিতি ও একের পর এক সিনেমায় কাজ করার ওপর। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। এখনকার প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীরা সিনেমার সংখ্যা কমিয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার ও ব্যবসায়িক পরিসরকে আরও বিস্তৃত করছেন।
‘ভ্যারাইটি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীপিকা পাড়ুকোন, কারিনা কাপুর, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, আনুশকা শর্মা ও ক্যাটরিনা কাইফের মতো তারকারা আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি বেছে বেছে কাজ করছেন।
তাদের সিনেমায় উপস্থিতি কমে যাওয়ায় অবশ্য বলিউডে নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের জন্য সুযোগও বাড়ছে। জাহ্নবি কাপুর, কৃতি স্যানন, রাশমিকা মান্দানা, অনন্যা পান্ডে ও তৃপ্তি দিমরির মতো তারকারা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে সর্বশেষ বড় পরিসরে হিন্দি সিনেমা ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’-এ দেখা গিয়েছিল। আনুশকা শর্মার শেষ বড় সিনেমা ছিল ‘জিরো’। ক্যাটরিনা কাইফ অভিনয় করেছেন ‘মেরি ক্রিসমাস’-এ। অন্যদিকে কারিনা কাপুর ‘জান জান’ ও ‘সিংহাম এগেইন’-এর মতো সিনেমায় কাজ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পেশাগত অন্যান্য দায়িত্বও সামলাচ্ছেন।
অভিনেত্রীদের এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে বদলে যাওয়া অগ্রাধিকার এবং সিনেমার বাইরেও নিজেদের জন্য তৈরি হওয়া নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ। একসময় বলিউডে টিকে থাকতে অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত জীবনকে অনেকটাই বিসর্জন দিয়ে নিয়মিত কাজ করতে হতো।
এই পরিবর্তনের পথ দেখানো তারকাদের মধ্যে সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাইয়ের নামও আসে। মূলধারার সিনেমার প্রচলিত ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে থেকেও তিনি নিজের তারকাখ্যাতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।
বর্তমান প্রজন্মের প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীরাও অনেকটা সেই পথ অনুসরণ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তারা বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরিতে মনোযোগী হচ্ছেন।
ক্যাটরিনা কাইফ ইতোমধ্যে সফল বিউটি ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। দীপিকা পাড়ুকোন বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে আলিয়া ভাট শিশুদের পোশাকের ব্র্যান্ডের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
অভিনেত্রীদের এই পরিবর্তনে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম তাদের প্রচলিত বাণিজ্যিক সিনেমার বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী ও জটিল চরিত্রে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘সিটাডেল’ ও ‘দ্য ব্লাফ’-এর মতো প্রকল্পে কাজ করেছেন। কারিনা ‘জান জান’-এর মাধ্যমে নতুন ধরনের দর্শকের কাছে পৌঁছেছেন। আলিয়া ভাট ‘ডার্লিংস’-এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সিনেমা ‘হার্ট অব স্টোন’-এও অভিনয় করেছেন।
তবে বড় বাজেটের অ্যাকশন সিনেমার আধিপত্য এবং মানসম্মত চিত্রনাট্যের সংকটও প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীদের নিয়মিত সিনেমা থেকে দূরে রাখার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিচালক মুদাসসার আজিজ ‘পুষ্পা’ ও ‘অ্যানিমেল’-এর মতো সিনেমার উদাহরণ দিয়ে বলেন, এসব ছবিতে নারী চরিত্রের উপস্থাপন অনেক সময় এতটাই দুর্বল থাকে যে অনেক অভিনেত্রী সচেতনভাবেই এ ধরনের প্রকল্প এড়িয়ে চলেন।
সব মিলিয়ে বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীরা অভিনয় থেকে সরে যাচ্ছেন না। বরং তারা ক্যারিয়ারকে নতুনভাবে সাজাচ্ছেন। তাদের কাছে এখন সিনেমা কেবল জনপ্রিয়তা বা বক্স অফিস সাফল্যের মাধ্যম নয়; বরং অভিনয়, ব্যবসা, বিনিয়োগ ও নিজস্ব ব্র্যান্ড মিলিয়ে একটি বৃহত্তর সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অংশ।
কম সিনেমায় ব্যস্ত থেকেও বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ছেন বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীরা
একসময় বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীদের ক্যারিয়ারের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করত পর্দায় নিয়মিত উপস্থিতি ও একের পর এক সিনেমায় কাজ করার ওপর। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। এখনকার প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীরা সিনেমার সংখ্যা কমিয়ে ন
প্রিয় বাংলাদেশবিনোদন


