রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ৬টা থেকে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির যৌথ আহ্বানে এ কর্মসূচি চলছে। এতে সাজেকে যাতায়াতের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে পিকেটিং করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদের অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছেন। তাদের স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক এস এম জিয়াউল হক জানান, বর্তমানে সাজেকে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন। রোববার সকাল ১০টায় সাজেক থেকে পর্যটকবাহী গাড়ি ছাড়ার কথা থাকলেও তা বন্ধ রয়েছে। তবে দুপুর ২টায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় গাড়ি চলাচলের কথা রয়েছে। এদিকে সকালে খাগড়াছড়ি শহর থেকে পর্যটকবাহী গাড়ি বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর পাহারায় গাড়িগুলোর সাজেকে যাওয়ার কথা রয়েছে।
খাগড়াছড়ি মাহিন্দ্রা মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি টুন্টু মনি চাকমা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পর্যটকবাহী গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রাখার কথা বললেও অবরোধকারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে পর্যটক ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, সকাল ৬টা থেকে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ চলছে। পিকেটিংয়ের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানান তিনি।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সাজেকে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় দুপুর ২টায় সাজেক থেকে পর্যটকবাহী একটি ট্রিপ বের হবে এবং একই সময়ে বাঘাইহাট থেকে সাজেকের উদ্দেশে গাড়ি যাওয়ার কথা রয়েছে।




