মজুরি বৃদ্ধি, চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ও ভূমির মালিকানাসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ১৮টি চা বাগানের শ্রমিকরা। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন বাগানে কর্মবিরতি, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ চলছে।চায়ের ভরা মৌসুমে আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাগান মালিক ও ব্যবস্থাপকরা। অন্যদিকে দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজি পাশী ও সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ঘোষ চার দফা দাবি ঘোষণা করেছেন। দাবিগুলো হলো—দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করা, শ্রমিক স্বার্থবিরোধী গেজেট-২০২৩ বাতিল, চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজন এবং বাগানে বসবাসরত শ্রমিকদের ভূমির স্থায়ী মালিকানা নিশ্চিত করা।

ফটিকছড়ির কর্ণফুলি, নেপচুন, রামগড়, উদালিয়া, নিউ দাঁতমারাসহ বিভিন্ন চা বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে নারী-পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি পঞ্চায়েত ও ভ্যালি পর্যায়ের নেতারাও অংশ নিচ্ছেন।শ্রমিক নেতাদের দাবি, বর্তমান বাজারদরের তুলনায় দৈনিক মজুরি অত্যন্ত কম। চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের ভূমির মালিকানা সমস্যারও সমাধান প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম ভ্যালির সভাপতি নিরঞ্জন নাথ মন্টু বলেন, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চা বাগানে বসবাস করলেও অধিকাংশ শ্রমিকের নিজস্ব জমির মালিকানা নেই। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে বিদ্যমান মজুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও দাবি করেন তিনি।নেপচুন চা বাগানের শ্রমিকরাও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যের সঙ্গে মজুরির অসামঞ্জস্যের কথা তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে বাগান ব্যবস্থাপকদের মতে, মার্চের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চা উৎপাদনের মৌসুম। জুন থেকে সেপ্টেম্বর ভরা মৌসুম হওয়ায় এ সময়ে শ্রমিক আন্দোলন উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।চট্টগ্রাম অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ বাগান ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে ৩ কোটি ৬ লাখ ৩১ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। চলতি বছর দেশে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বুধবার ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১৮টি চা বাগানের ব্যবস্থাপকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। শ্রমিকদের সঙ্গে সহনশীল আচরণ এবং গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার ১৮টি বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত নেতাদের নিয়ে পৃথক বৈঠক করা হবে। তাদের দাবিদাওয়া শুনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।