রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিশেষ বিবেচনা ও সংরক্ষিত কোটায় নিয়ম না মেনে বরাদ্দ দেওয়া দুই শতাধিক প্লট বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও বিশেষ ক্ষমতার ব্যবহার করে এসব প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

ঢাকা টাউন ইমপ্রুভমেন্ট (অ্যালটমেন্ট অব ল্যান্ডস) রুলস, ১৯৬৯-এর ১৩(এ) ধারায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অথবা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর বিশেষ কোটায় প্লট দেওয়ার সুযোগ ছিল। এই বিধানের সুযোগ নিয়েই স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বেশ কিছু প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে যেসব প্লটের চূড়ান্ত রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন এখনো সম্পন্ন হয়নি, সেগুলোর মধ্যে শতাধিক প্লটের বরাদ্দ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষ কোটায় বরাদ্দ দেওয়া অন্য প্লটগুলোর বৈধতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বরাদ্দের সময় আইন, আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের যৌথ দল।

এদিকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে পাওয়া ১০ কাঠার প্লটের বরাদ্দ ইতোমধ্যেই আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে।

আদালত ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বা বিশেষ কোটার নামে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম বন্ধ করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এখন সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি, আমলা এবং বিচারপতিদের নামে বিশেষ কোটায় বরাদ্দ হওয়া প্লটগুলোর আইনগত বৈধতাও যাচাই করা হচ্ছে।