রাজশাহীর গৌরহাঙ্গা এলাকায় চুরির অভিযোগে দুই তরুণকে গাছে বেঁধে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাদের নির্যাতনে বাধা দিতে গিয়ে এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। পরে ঘটনাটি নিয়ে থানায় মামলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহানগরীর গৌরহাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার দুই তরুণ হলেন বোয়ালিয়া থানার জোলাপাড়া লাইনপাড়া এলাকার মো. মিজান (২৫) ও ষষ্ঠীতলা এলাকার তন্ময় তেওয়ারী (২৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরহাঙ্গা এলাকার মাসুদ স্টিল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ থেকে নিয়মিত লোহার বিভিন্ন সামগ্রী চুরি যাওয়ার অভিযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে ওয়ার্কশপের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তন্ময়কে আটক করেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক মাসুদ রানা।পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তন্ময় চুরির ঘটনায় মিজানের জড়িত থাকার কথা বলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এরপর মিজানকেও ধরে আনা হয়। দুই তরুণকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।


এ সময় স্থানীয় দুই যুবক আল-আমিন ওরফে রিমন (২২) এবং মো. শুভ (২৩) নির্যাতনে বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে মাসুদ রানার সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রিমন পকেট থেকে চাকু বের করে মাসুদ রানার পিঠে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।খবর পেয়ে শিরোইল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রিমন ও তন্ময়কে আটক করেন। এ সময় শুভ ও মিজান ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে আহত মাসুদ রানাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


ঘটনার পর মাসুদ রানার স্ত্রী শ্যামলী খাতুন বাদী হয়ে শুক্রবার বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় দুই তরুণসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে।অন্যদিকে, গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত মাসুদ রানা নিজেও ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মোস্তারি বলেন, দুই তরুণকে নির্যাতনের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দুজনকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।