ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করা এবং অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তাঁর বক্তব্য, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হলে বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে হবে।
রবিবার সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী জানান, আগামী ১২ ডিসেম্বর ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করে গ্যারান্টি ক্লজসহ চুক্তি নবায়ন করা হলে পানিবণ্টন নিয়ে বিতর্ক কমবে বলে তিনি মনে করেন।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিগত সরকারের সময়ে ভারতকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, চুক্তি নবায়নে কার্যকর নিশ্চয়তা থাকলে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের অবস্থান আরও পরিষ্কার হবে।
এ সময় পঞ্চগড় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা যুবদলের সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বাবুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার প্রকল্পটি গত বুধবার একনেকের সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। তেঁতুলিয়ার ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় সড়কের সংযোগস্থলে সেতুটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেতুটি চালু হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী পঞ্চগড় জেলা শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতিসংক্রান্ত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।




