মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।তেহরানে অনুষ্ঠিত ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামি ঐক্য সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের ঐক্যই বহিরাগত ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর শক্তি হতে পারে।পেজেশকিয়ান বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক বা কৌশলগত মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু এসব পার্থক্য যেন একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘাতের কারণ না হয়।

তার মতে, মুসলিম দেশগুলোর নিরাপত্তা পরস্পরের অনিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। কোনো মুসলিম দেশের ভূখণ্ড অন্য কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে সামরিক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ওআইসির ৫৭টি সদস্যরাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব দেশে দুই বিলিয়নেরও বেশি মুসলমান বসবাস করেন। মুসলিম বিশ্বের রয়েছে বিপুল জ্বালানি সম্পদ, কৌশলগত বাণিজ্যপথ, বড় বাজার, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা।কিন্তু এসব সম্ভাবনাকে এখনো যথাযথভাবে সম্মিলিত শক্তিতে পরিণত করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা ও অনাক্রমণ চুক্তি, ওআইসির অধীনে স্থায়ী মধ্যস্থতা ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন।

ফিলিস্তিন ইস্যুতেও ইরানের অবস্থান তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, নিপীড়িত জনগণের পাশে দাঁড়ানো ইরানের নীতির অংশ।তবে তার বক্তব্যে একই সঙ্গে প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা ও যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।