ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ থেকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
অ্যাক্সিওসের বরাতে জানা যায়, গত সপ্তাহে দুই নেতার আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে কথা হয়। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিভাগের কিছু কর্মকর্তা সামরিক বিকল্প প্রস্তুত রাখার পক্ষে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের একটি অংশ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখাকে বেশি কার্যকর মনে করছেন।
তবে হোয়াইট হাউস দুই নেতার মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে আলোচনার খবর অস্বীকার করেছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর কথা বলেছেন ট্রাম্প। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ও আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিশ্চিত করেনি।
সম্ভাব্য সংঘাতের প্রভাব ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী পরিস্থিতিতেও পড়তে পারে। ইরান পাল্টা হামলা চালালে ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি, জনজীবনে বিঘ্ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। তবে যুদ্ধ শুরু হলে নির্বাচন স্থগিত হবে—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাবের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এই আলোচনায় অগ্রগতি হলে নতুন সংঘাত এড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই পরিস্থিতির গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করছে। একদিকে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা ও আলোচনার পথ—দুই বিকল্পই বিবেচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস