জাতীয় সংসদসহ রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়ে নারীর অন্তত এক-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান।
সভায় মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু লিখিত বক্তব্যে নির্বাচনে নারীর মনোনয়ন বাড়ানো, নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী সহিংসতা ও অর্থের অপব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। স্বাগত বক্তব্যে আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও রাজনীতিতে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের সুযোগ এখনও সীমিত।
প্রধান অতিথি সেলিমা রহমান বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে নারী ইস্যুতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি কন্যাশিশুর প্রতি নির্যাতন বন্ধ এবং নারীদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তৃণমূলের নারীদের এগিয়ে নিতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন।
আলোচনায় সংসদ সদস্যরা রাজনৈতিক দলগুলোতে যোগ্য নারী কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া, তৃণমূলের নারীদের অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারণে কাজে লাগানো এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। সংসদ সদস্য মাধবী মারমা প্রান্তিক নারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। নাদিয়া পাঠান পাপন রাজনৈতিক দলগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের দাবি বাস্তবায়নে জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্য আন্না মিনজ বলেন, সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও সমান বরাদ্দ দেওয়া হলে জনগণের সঙ্গে সরাসরি কাজের সুযোগ বাড়ে। নিলোফার চৌধুরী মনি তৃণমূলের সংগ্রামী নারী কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। ফরিদা ইয়াসমিন নির্যাতিত ও প্রান্তিক নারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। শিরীন সুলতানা নারীশিক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও তৃণমূল নেতৃত্ব বিকাশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সময়ের সঙ্গে নতুন রূপ নেয়। নারীর অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন জরুরি। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সংসদে আলোচনা তোলা এবং সংসদ ও রাজপথের আন্দোলন সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় নারী সংসদ সদস্য, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির প্রতিনিধি, মহিলা পরিষদের নেত্রী ও কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকসহ প্রায় ১৫০ জন অংশ নেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং পরিচালক জনা গোস্বামী।