অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, বর্তমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে কর প্রদানে সক্ষম নতুন নাগরিকদের করের আওতায় আনতে হবে। এতে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থায়ন সহজ হবে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার একটি হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ‘তৃতীয় অভিষেক অনুষ্ঠান ও এমটিএম নাইট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি শুধু উৎপাদন ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে না। কার্যকর রাজস্ব আহরণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কর ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা পেশাজীবীদের দায়িত্ব রয়েছে।
বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত ও চীনে এ হার যথাক্রমে প্রায় ১২ ও ২০ শতাংশ। রাষ্ট্রীয় সেবা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার প্রয়োজন। করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার মাধ্যমে কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় কর দিতে উৎসাহিত করতে হবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সময় বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত সুফল বা রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (আরওআই) বিবেচনায় নিতে হবে। সরকারি অর্থ ব্যয়ে জনগণের স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।