সরকারি-বেসরকারি ভবন ও পতিত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সুযোগ রেখে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব আগের তুলনায় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি জানান, সরকারের বিভিন্ন ভবন, সাধারণ মানুষের ভবন এবং অনাবাদি বা পতিত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দুটি মডেল অনুসরণের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর একটি হলো ওপেক্স (OPEX), যেখানে পরিচালন ব্যয় বহনের ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালিত হবে। অন্যটি ক্যাপেক্স (CAPEX), যেখানে মূলধনি বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্প স্থাপন করে দীর্ঘ মেয়াদে পরিচালনার ব্যবস্থা থাকবে। নাসিমুল গনি বলেন, কয়েক দফা আলোচনা শেষে অধ্যাদেশের খসড়াটি অনুমোদন করা হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের যাচাই শেষে এটি জারি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত রটারডাম কনভেনশনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ কনভেনশনের আওতায় নির্দিষ্ট বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশক আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের আগাম অবহিত সম্মতি এবং ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তথ্য জানার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিষয়টি পর্যালোচনার পর বাংলাদেশ এ আন্তর্জাতিক কনভেনশনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।