ঢাকায় থেকে সৌদি আরবের ফ্লাইট একের পর এক বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় ছুটিতে বাড়িতে আসা বাংলাদেশি প্রবাসীরা পড়েছেন চরম বেকায়। কবে নাগাদ ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে, সেটা নিয়ে ধোয়াশা থাকায় কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। বেশিরভাগের  ভিসার মেয়াদ ও চাকরি নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। রুট পরিবর্তন করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে গেলেও সে ক্ষেত্রে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া ও খরচ। সৌদি আরবের রিয়াদে বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ফ্লাইটের এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। 

ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেখা গেছে, দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় আসার পর ফ্লাইট বাতিলের খবর শোনার পরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেকেই। এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে খোঁজখবর নিচ্ছেন ফ্লাইটের বিষয়ে। কেউ ফোনে কথা বলছেন, কেউ ট্রলির ওপর মালাপত্র নিয়ে অসহায় বসে আছেন, কেউ-বা আবার বিকল্প ফ্লাইটের সন্ধান করছেন। আ. মালেক নামের একজন যাত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, তিনি এক মাসের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। সৌদির বিমানবন্দরে হামলার কারণে প্রথম টিকিট বাতিল হয়েছে তার। চাকরি বাঁচাতে এখন দুবাই হয়ে মদিনায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে ৮০ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে তার।  মো. শরীফ সরকার নামের আরেকজনের ভাষ্য, তিনি এসেছেছিলেন তিন মাসের ছুটিতে। আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ফিরতে পারবেন না। তাই তাড়াতাড়ি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। কিন্তু  বিমানবন্দরে এসে শুনেন তার ফ্লাইত বাতিল হয়ে গেছে। এখনযাইতে পারবেন কি না সেটা নিয়ে চিন্তিত তিনি।  তাদের মতো হাজার হাজার প্রবাসীর যাত্রা আটকে গেছে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক)তথ্য অনুযায়ী,  ঢাকা  থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১১৮টি  ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের ১৮ হাজার ৩৬২ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৫২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৬৬টি রয়েছে। 
এসব ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীরা। এদের মধ্যে অনেকে বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করেও নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। এর মধ্যে আবার বিকল্প রুটের টিকিটের দাম কয়েক গুন বেড়ে গেছে। ফলে নতুন করে আর্থিক চাপেও পড়েছেন তারা।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ার আগ পযন্ত ফ্লাইট বাতিলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বেবিচক সংশ্লিষ্টরা। 
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝঁকি এড়াতে বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবের দাম্মাম ও মদিনাগামী ফ্লাইটে যাত্রীদের পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।  আসন খালি থাকা সাপেক্ষে বিনা খরচে অন্য ফ্লাইটে  যাত্রীদের পাঠানো হবে। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের বিকল্প ফ্লাইটে পাঠানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।