বিদ্যুৎ খাতে বিপুল ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ, জ্বালানির দাম নির্ধারণে গণশুনানির অনুপস্থিতি এবং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র যাচাইয়ে ফরেনসিক অডিটের দাবিও উঠেছে কমিটির বৈঠকে।
শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) সাংবাদিকদের আলোচনার বিষয়বস্তু জানান।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থের যৌক্তিকতা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদনের কারণ খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক অডিটের দাবি জানান কমিটির সদস্যরা।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দেশে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিপরীতে প্রকৃত উৎপাদন প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা এবং ক্যাপাসিটি চার্জের হিসাব বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা দরকার।
নাজিবুর রহমান বলেন, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের ৩৪ ধারায় গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানির দাম নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রবিধান তৈরির বিধান রয়েছে। কিন্তু এত বছরেও প্রবিধান তৈরি না হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে কমিটি। সম্প্রতি এলপিজি ও জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বৈঠকে ডিজেলের মজুত নিয়েও উদ্বেগ উঠে আসে। হাসনাত আব্দুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ৩১ দিনের। মজুত বাড়ানোর উপায় খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। পাশাপাশি এলপিজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার অভিযোগ তুলে বাজার তদারকি বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর দাবি, ৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি স্থাপনার ব্যয় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা হওয়ার কথা থাকলেও সরকারি প্রকল্পে একই ধরনের স্থাপনার ব্যয় ৩৫০ কোটি টাকার বেশি ধরা হয়েছে। কেন এ ব্যবধান, তা জানতে প্রকল্পের খাতভিত্তিক ব্যয়ের হিসাব চেয়েছে কমিটি।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ২২ মেগাওয়াট, বিপরীতে উৎপাদন ৪ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ৬ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াটের বিপরীতে উৎপাদন আড়াই থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট।
এ ছাড়া ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত বিদ্যুতের পরিমাণ, ৩২টি গ্যাসকূপ খননের তথ্য এবং এ-সংক্রান্ত প্রচারিত বক্তব্যের সত্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে কমিটি। ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে হাইকোর্টের একটি রায়ের পর গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। কমিটির সভাপতি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সভাপতিত্বে বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।