দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, ধারণ করা ফুটেজ সংরক্ষণ এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি আজান ও নামাজের প্রতি সম্মান রেখে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। রবিবার কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজান ও নামাজের সময়সূচি জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তা অনুসরণ করে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। দুর্গাপূজায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের সম্মিলিতভাবে মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি পালাক্রমে পাহারার ব্যবস্থা এবং কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা গোষ্ঠী যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ মোবাইল ফোন বা অনলাইন ক্লাউডে সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে। বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখার নির্দেশ দেন তিনি। পূজার ছুটিতে সরকারি কার্যক্রম সীমিত থাকলেও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে তদারকি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ এবং পূজার ছুটি দুই দিন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জেলার প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য শাড়িও পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া পূজামণ্ডপে যাওয়ার সড়কে সমস্যা থাকলে প্রশাসনকে জানাতে এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে সভায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।