রাজশাহী মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে একাধিক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চলমান কাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর সিটি হাট চত্বরে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তিনটি প্রকল্পের পাঁচটি পুনঃস্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, পানির লাইন স্থাপনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে মেরামত করা হবে। বন্ধ থাকা উন্নয়নকাজ পুনরায় শুরু করে দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোনাদীঘি মসজিদ ও বাঁধের উন্নয়নও এ পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।
রাজশাহীর যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়নে জামিরা থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত তিন লেনের বাইপাস নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ সড়কে ডিভাইডার, ফুটপাত, ড্রেন ও দুই পাশে গাছ লাগানোর ব্যবস্থা থাকবে। একই পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে বিমানবন্দর থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত আরেকটি আধুনিক সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পদ্মার পাড়ে রিভার ড্রাইভ এবং বারনই নদীর পাশেও নতুন সড়ক নির্মাণ করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন অতীতে অপসারণ করা বিভিন্ন স্মৃতিফলক পুনরুদ্ধারের দাবি জানান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নামসংবলিত ফলকগুলো খুঁজে বের করে আগের স্থানে স্থাপনের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর রশিদ, রাসিকের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। ফলক উন্মোচনের পর দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
২০০৪ ও ২০০৫ সালে রাজশাহী মহানগরীর সড়ক নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে নর্দমা নির্মাণ এবং মোড় প্রশস্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর ফলকগুলো পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।