দুর্ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জ্ঞান ফেরেনি সাংবাদিক রিয়াজ চৌধুরীর। যুক্তরাজ্যের লিডসের একটি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। বন্ধুর এমন সংকটাপন্ন অবস্থার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান সাংবাদিক কাফি কামাল। বন্ধুর শয্যাপাশে দাঁড়িয়ে তার বর্তমান অবস্থা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
লিডসের দ্য জেনারেল ইনফার্মারি অ্যাট লিডস (এলজিআই) হাসপাতালের জুবিলি উইংয়ের এল২৫ হাই অবজারভেশন বে-তে চিকিৎসাধীন রিয়াজ। কাফি কামাল সম্প্রতি তাকে দেখতে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ শয্যাপাশে অবস্থান করেন। অচেতন বন্ধুর এমন অসহায় অবস্থা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে।
হাসপাতালে রিয়াজকে অচেতন অবস্থায় মাঝেমধ্যে হাত-পা নাড়াতে, গোঙাতে এবং অস্পষ্ট শব্দ উচ্চারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। কয়েকবার অস্ফুট স্বরে ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ বলতেও শোনা যায়। তার দুই হাতে বিশেষ সুরক্ষামূলক আবরণ এবং ঘাড়ে বিশেষ কলার পরানো রয়েছে।
ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা একজন নার্সের কাছ থেকে কাফি কামাল জানতে পারেন, রিয়াজের মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত লেগেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ অবস্থাকে ‘সিভিয়ার ব্রেইন ইনজুরি’ বলা হয়। পাশাপাশি তার ঘাড়ের হাড়েও ফ্র্যাকচার হয়েছে। এ কারণে অন্তত ১২ সপ্তাহ বিশেষ কলার ব্যবহার করতে হতে পারে।
চিকিৎসকেরা আশা করছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে পারে। তবে কবে জ্ঞান ফিরবে, কখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন কিংবা পুরোপুরি সুস্থ হবেন কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশে থাকা সাংবাদিক সহকর্মীরাও নিয়মিত রিয়াজের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন। লিডসে বসবাসরত সাংবাদিক মোহাম্মদ জাকারিয়া, কিবরিয়া ও মাহমুদ আজহার দুর্ঘটনার পর থেকেই রিয়াজ ও তার পরিবারের পাশে রয়েছেন। কাফি কামালও বন্ধুকে দেখতে গিয়ে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
রিয়াজের এই সংকটময় সময়ে তার পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রত্যাশা—আবার চোখ মেলে তাকাবেন তিনি, ফিরবেন স্বাভাবিক জীবনে। তার সুস্থতার জন্য দেশ-বিদেশের সাংবাদিক সহকর্মী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।