কুষ্টিয়ায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আরও একটি ভাটার কিলন ও চিমনি ভেঙে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জেলার সদর উপজেলার কীর্তিনগর-ইমানপুর এলাকায় মেসার্স ফাইভ স্টার ব্রিকস নামের একটি অবৈধ ইটভাটায় এ অভিযান চালানো হয়। এক্সকাভেটর দিয়ে ভাটাটির কিলন ও চিমনি সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় ইটভাটার কার্যক্রম। চলতি ইটভাটা মৌসুমে এটি পরিবেশ অধিদপ্তরের চতুর্থ অভিযান।
তবে জেলায় ১৫৫টি অবৈধ ইটভাটা থাকার পরও কেন সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাঝেমধ্যে অভিযান, জরিমানা ও স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম। বরং অভিযান শেষে অনেক ভাটা আবারও নির্মাণ করে কার্যক্রম শুরু করছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় বৈধ ইটভাটা রয়েছে মাত্র ১৭টি। বিপরীতে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা ১৫৫টি। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ২৮টি এবং মিরপুর উপজেলায় ৩৫টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। অথচ এ দুই উপজেলায় একটিও বৈধ ইটভাটা নেই।
এত বিপুলসংখ্যক অবৈধ ইটভাটা কীভাবে বছরের পর বছর পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এসব ইটভাটার কারণে কৃষিজমি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে বায়ুদূষণ বাড়ছে। পাশাপাশি আবাদি জমির মাটি কেটে ইট তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করা হলে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অভিযান চালিয়ে ভাটা ভেঙে দেওয়ার পরও অনেক মালিক আবারও একই স্থানে স্থাপনা নির্মাণ করছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর যেসব অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই পরে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
এতে প্রশ্ন উঠছে, অভিযান পরিচালনার পর ভাটাগুলোর ওপর নজরদারি ছিল না কেন? একই মালিক বারবার আইন অমান্য করে ভাটা চালু করলে তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? পুনর্নির্মিত ভাটাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক বলেন, যেসব ইটভাটা আমরা ভেঙে দিয়ে আসছি, সেগুলো পুনরায় নির্মাণ করা হলে আবারও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলায় এত বিপুলসংখ্যক অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। সেগুলোকে আইনের আওতায় এনে বন্ধ করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।
মঙ্গলবারের অভিযানে বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকিউল আলম। প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক শোয়াইব মোহাম্মদ শোয়েব। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, এসআরবি-১২ ও জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
এত বিপুলসংখ্যক অবৈধ ইটভাটার অস্তিত্ব থাকার পরও পরিবেশ অধিদপ্তর কেন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না, নাকি দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে এ প্রশ্নের উত্তর জরুরি। পরিবেশ রক্ষায় শুধু মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো যথেষ্ট নয়। অবৈধ ইটভাটার মালিকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পুনর্নির্মাণ বন্ধ করা এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় অভিযান চললেও কৃষিজমি ও পরিবেশের ক্ষতি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।




