জন্মের পর মায়ের কোলে থাকার কথা যে শিশুটির, তার জীবন এখন মায়ের সুস্থতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। মাত্র এক মাস বয়সী সন্তানকে রেখে মৃত্যুঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন ২০ বছর বয়সী টুকটুকি। জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসকেরা দুই থেকে তিন লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে এই অর্থের সংস্থান করা সম্ভব হচ্ছে না।
টুকটুকির বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের ভরাঘাটা গ্রামে। তার বাবা আব্দুল কাইয়ুম হাওলাদার পেশায় দিনমজুর। পারিবারিক অভাবের মধ্যেই বিয়ে হয়েছিল টুকটুকির। তবে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামী আজিজুল ইসলাম তাকে ছেড়ে চলে যান। এমন পরিস্থিতিতে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরপরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তান প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় টুকটুকির। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার পেটে রক্ত জমাট বেঁধে শক্ত পিণ্ড তৈরির বিষয়টি জানান। এখনো রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি। চিকিৎসার জন্য দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
মেয়ের চিকিৎসা চালাতে ইতোমধ্যে নিজের সামর্থ্যের সবটুকু ব্যয় করেছেন আব্দুল কাইয়ুম। ধারদেনা করেও চিকিৎসার খরচ মেটানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে না পারায় এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে টুকটুকির চিকিৎসা।
অন্যদিকে মায়ের অসুস্থতার মধ্যেই এক মাসের শিশুটির দেখভাল করতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের। যে বয়সে মায়ের বুকের দুধ, স্নেহ আর সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠার কথা, সে সময়ই শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পরিবারে।
টুকটুকির চিকিৎসায় সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য বিপু আহম্মেদ। তিনি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন মানবিক সংগঠন এবং প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, সম্মিলিতভাবে দুই থেকে তিন লাখ টাকা সংগ্রহ করা গেলে টুকটুকির অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হতে পারে।
বিপু আহম্মেদ বলেন, অর্থের অভাবে ২০ বছর বয়সী একজন তরুণীর জীবন যেন ঝুঁকির মুখে না পড়ে। তার এক মাসের শিশুটিও যেন মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত না হয়। এ জন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করা হলে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
একটি শিশুর কাছে মায়ের বিকল্প নেই। তাই টুকটুকির চিকিৎসার জন্য এখন জরুরি আর্থিক সহায়তা। সময়মতো প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হলে তার চিকিৎসা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।




