সময় বয়ে যায়, পৃথিবী থেকে বিদায় নেন একের পর এক গুণী ও কীর্তিমান মানুষ। তবে তাদের কর্ম, সৃষ্টি, আদর্শ ও অবদান ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকে। ৩ নভেম্বর এমনই কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রয়াণদিবস। রাজনীতি, সাহিত্য, শিল্পকলা, সংগীত ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা স্মরণীয় আট ব্যক্তিত্বকে নিয়ে আজকের আয়োজন।
যারা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন-
জাতীয় চার নেতা (১৯৭৫) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক ও জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত হন। মুক্তিযুদ্ধের কঠিন সময়ে তারা নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ও রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসে তাদের অবদান চিরস্মরণীয়।
অ্যানি ওকলি (১৯২৬) যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি নারী শার্পশুটার ও মঞ্চশিল্পী অ্যানি ওকলি ১৯২৬ সালের ৩ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। বন্দুক চালনায় অসাধারণ দক্ষতার কারণে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। Buffalo Bill’s Wild West শোতে তার নৈপুণ্য দর্শকদের মুগ্ধ করত। নারীদের সক্ষমতা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসেও তিনি স্মরণীয়।
আঁরি মাতিস (১৯৫৪) ফরাসি চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর আঁরি মাতিস ১৯৫৪ সালের ৩ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। আধুনিক চিত্রকলার অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। রং, রেখা ও স্বতন্ত্র শিল্পভাষার ব্যবহারে তিনি চিত্রকলায় নতুন মাত্রা যোগ করেন। তার বিখ্যাত কাজের মধ্যে The Dance বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
উইলহেল্ম রাইখ (১৯৫৭) অস্ট্রীয় মনোবিশ্লেষক, চিকিৎসক ও লেখক উইলহেল্ম রাইখ ১৯৫৭ সালের ৩ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। মনোবিশ্লেষণ ও মানবমন নিয়ে তার গবেষণা আলোচিত ছিল। মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েডের চিন্তাধারার প্রভাব নিয়ে তিনি নিজস্ব তত্ত্ব ও গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি করেন। তার কাজ মনোবিজ্ঞানের ইতিহাসে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।
 লিওন তেরেমিন (১৯৯৩) রাশিয়ার বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক লিওন তেরেমিন ১৯৯৩ সালের ৩ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। ইলেকট্রনিক বাদ্যযন্ত্র ‘তেরেমিন’ উদ্ভাবনের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। যন্ত্রটি স্পর্শ না করেই হাতের নড়াচড়ার মাধ্যমে বাজানো যায়। ইলেকট্রনিক সংগীতের বিকাশে তার আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বব কেইন (১৯৯৮) বিশ্বখ্যাত কমিক চরিত্র ব্যাটম্যানের অন্যতম স্রষ্টা বব কেইন ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৩৯ সালে ডিসি কমিকসের জন্য ব্যাটম্যান চরিত্র নির্মাণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার সৃষ্ট চরিত্রটি পরবর্তী সময়ে কমিকস, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। 
রাসুল গামজাতভ (২০০৩) দাগেস্তানের বিখ্যাত কবি রাসুল গামজাতভ ২০০৩ সালের ৩ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। আভার ভাষায় কবিতা লিখে তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্যাঙ্গনে পরিচিতি অর্জন করেন। তার লেখায় মানবতা, মাতৃভূমি, ভালোবাসা ও মানুষের জীবনবোধ বিশেষভাবে উঠে এসেছে। দাগেস্তানের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে তার অবদান স্মরণীয়। 
কুইন্সি জোন্স (২০২৪) বিশ্বখ্যাত মার্কিন সংগীত প্রযোজক, সুরকার ও সংগীত পরিচালক কুইন্সি জোন্স ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর ৯১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মাইকেল জ্যাকসনের Thriller, Bad ও Off the Wall অ্যালবাম প্রযোজনায় তার ভূমিকা ছিল অসাধারণ। দীর্ঘ সংগীতজীবনে ২৮টি গ্র্যামি পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।
আজকে দিনে প্রয়াত এই ব্যক্তিত্বরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে রেখে গেছেন অনন্য স্বাক্ষর। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসে জাতীয় চার নেতার আত্মত্যাগ যেমন চিরস্মরণীয়, তেমনি শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সংগীতে অন্যদের অবদানও বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। মানুষ চলে গেলেও তার কর্ম ও সৃষ্টি সময়ের সীমানা অতিক্রম করে বেঁচে থাকে।