পৃথিবীতে মানুষের আগমন যেমন একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে, তেমনি তার বিদায় রেখে যায় অসংখ্য স্মৃতি ও কর্মের স্বাক্ষর। ইতিহাসের প্রতিটি দিনেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন বহু গুণী মানুষ। তাদের কেউ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সত্য ও সময়কে তুলে ধরেছেন, কেউ সাহিত্য-দর্শনে, কেউ রাজনীতি, বিজ্ঞান, সংগীত কিংবা ক্রীড়াঙ্গনে রেখেছেন অসামান্য অবদান। ১ নভেম্বরও এমনই একটি দিন। এ দিনে পৃথিবী ছেড়ে গেছেন বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব।
উল্লেখযোগ্য প্রয়াত ব্যক্তিত্ব-
থিওডর মমসেন (১৯০৩) — জার্মান ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ। প্রাচীন রোমের ইতিহাস নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯০২ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। 
ডেল কার্নেগি (১৯৫৫) — মার্কিন লেখক, প্রশিক্ষক ও আত্মোন্নয়নবিষয়ক বক্তা। How to Win Friends and Influence People বইয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 
ইয়াহিয়া কামাল বেয়াতলি (১৯৫৮) — তুরস্কের খ্যাতিমান কবি, লেখক ও কূটনীতিক। তুর্কি সাহিত্য ও কবিতায় তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। 
এজরা পাউন্ড (১৯৭২) — মার্কিন কবি, সাহিত্য সমালোচক ও আধুনিকতাবাদী সাহিত্য আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। বিংশ শতাব্দীর ইংরেজি কবিতায় তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। 
কিং ভিডর (১৯৮২) — মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার। হলিউডের নির্বাক ও সবাক চলচ্চিত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। 
রেনে লেভেস্ক (১৯৮৭) — কানাডার সাংবাদিক, লেখক ও রাজনীতিবিদ। কুইবেকের প্রিমিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কানাডার রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। 
সেভেরো ওচোয়া (১৯৯৩) — স্পেনীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও প্রাণরসায়নবিদ। নিউক্লিক অ্যাসিড সংশ্লেষণসংক্রান্ত গবেষণার জন্য ১৯৫৯ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।জে. আর. জয়বর্ধনে (১৯৯৬) — শ্রীলঙ্কার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও দেশটির দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট। শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক ইতিহাসে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। 
ওয়াল্টার পেটন (১৯৯৯) — যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি আমেরিকান ফুটবল খেলোয়াড়। এনএফএলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা রানিং ব্যাক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 
উইলিয়াম স্টাইরন (২০০৬) — মার্কিন ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক। Sophie's Choice এবং The Confessions of Nat Turner তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম। 
জ্যাক পিকার্ড (২০০৮) — সুইজারল্যান্ডের সমুদ্রবিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী। গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানে বিশেষ অবদান রাখেন এবং সমুদ্রের গভীরতম অঞ্চলে পৌঁছানোর ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। 
ইমা সুমাক (২০০৮) — পেরুভীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সংগীতশিল্পী ও অপেরা গায়িকা। অসাধারণ কণ্ঠসীমা ও স্বতন্ত্র সংগীতশৈলীর জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। 
পল জিমারম্যান (২০১৮) — যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক। Sports Illustrated সাময়িকীতে দীর্ঘদিন এনএফএল ফুটবল নিয়ে লেখালেখি করে ক্রীড়া সাংবাদিকতায় বিশেষ পরিচিতি পান। 
গুন্টার শাবোভস্কি (২০১৫) — জার্মান সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ। পূর্ব জার্মানির কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র হিসেবে বার্লিন প্রাচীর খুলে দেওয়ার ঘোষণা বিশ্ব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। 
ফ্রেড থম্পসন (২০১৫) — মার্কিন আইনজীবী, অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে অভিনয় করে পরিচিতি পান। 
টেকঅফ (২০২২) — মার্কিন র‍্যাপার ও সংগীতশিল্পী। জনপ্রিয় হিপ-হপ দল মিগোসের সদস্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি অর্জন করেন। 
সময় চলে যায়, মানুষও একদিন পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। কিন্তু মানুষের কর্ম, চিন্তা, সৃষ্টি ও অবদান সময়ের সীমানা অতিক্রম করে বেঁচে থাকে। ১ নভেম্বর যেসব খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব পৃথিবী ছেড়ে গেছেন, তাদের কেউ কলম দিয়ে ইতিহাস লিখেছেন, কেউ জ্ঞান-বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন, আবার কেউ রাজনীতি, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনে রেখেছেন স্থায়ী ছাপ। মৃত্যু তাদের জীবনাবসান ঘটালেও কীর্তি ও অবদান তাদের স্মরণীয় করে রেখেছে।