ইতিহাসের পাতায় ৩১ অক্টোবর দিনটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বহু গুণী মানুষের প্রয়াণের স্মৃতি বহন করে। বিজ্ঞান, সাংবাদিকতা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির জগতে নিজেদের প্রতিভা ও কর্মের স্বাক্ষর রেখে যাওয়া এসব ব্যক্তিত্বের অবদান আজও স্মরণীয়।
 রবার্ট স্যান্ডারসন মুলিকেন -১৯৮৬: মার্কিন রসায়নবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী। অণুর ইলেকট্রনিক গঠন ও রাসায়নিক বন্ধন নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৬৬ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান।
 হ্যাল অ্যাঙ্গার -২০০৫: মার্কিন জীবপদার্থবিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহৃত গামা ক্যামেরা ও নিউক্লিয়ার মেডিসিনের ইমেজিং প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
জর্জ ইউজিন উলেনবেক -১৯৮৮: ডাচ-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। ইলেকট্রনের স্পিন ধারণা প্রবর্তনের মাধ্যমে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
স্টাডস টার্কেল -২০০৮: মার্কিন সাংবাদিক, লেখক ও বেতার উপস্থাপক। সাধারণ মানুষের জীবন, অভিজ্ঞতা ও সমাজের নানা বিষয় নিয়ে তার সাক্ষাৎকারভিত্তিক কাজ বিশেষভাবে পরিচিত।
 পিটার ফ্রায়ার -২০০৬: ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লেখক। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও সামাজিক বিষয় নিয়ে লেখালেখির জন্য পরিচিত ছিলেন।
জর্জ হ্যালাস -১৯৮৩: যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি আমেরিকান ফুটবল খেলোয়াড় ও কোচ। এনএফএলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং শিকাগো বেয়ার্সের দীর্ঘদিনের কোচ হিসেবে ক্রীড়াজগতে স্মরণীয়।
বিল ডারনান -১৯৭২: কানাডার বরেণ্য আইস হকি গোলরক্ষক। এনএইচএলে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য একাধিকবার সেরা গোলরক্ষকের স্বীকৃতি লাভ করেন।
রে গ্রাভেল -২০০৭: ওয়েলসের সাবেক রাগবি খেলোয়াড়। খেলাধুলার পাশাপাশি ধারাভাষ্যকার ও অভিনেতা হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছিলেন।
গ্রেগ মুর -১৯৯৯: কানাডার প্রতিভাবান মোটর রেসিং চালক। অল্প বয়সেই আন্তর্জাতিক মোটরস্পোর্টসে পরিচিতি অর্জন করেছিলেন।
ফেদেরিকো ফেলিনি -১৯৯৩: ইতালির বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার। লা দোলচে ভিতা, লা স্ত্রাদা ও ৮½ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্ব চলচ্চিত্রে বিশেষ স্থান করে নেন।
হ্যারি হুডিনি -১৯২৬: বিশ্বখ্যাত জাদুশিল্পী ও দুঃসাহসিকভাবে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার কৌশলের জন্য পরিচিত ছিলেন। জাদুবিদ্যার ইতিহাসে তিনি অন্যতম কিংবদন্তি।
রিভার ফিনিক্স -১৯৯৩: মার্কিন অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী। অল্প বয়সেই অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে দর্শক ও চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেন।
শন কনারি -২০২০: স্কটিশ অভিনেতা। জেমস বন্ড চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন।
এডুয়ার্দো ডি ফিলিপ্পো -১৯৮৪: ইতালির প্রখ্যাত নাট্যকার, অভিনেতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক। ইতালীয় নাট্যজগতে তার সৃষ্টি ও অভিনয় বিশেষভাবে সমাদৃত।
এগন শিলে -১৯১৮: অস্ট্রিয়ার বিখ্যাত চিত্রশিল্পী। স্বতন্ত্র চিত্ররীতি ও অভিব্যক্তিবাদী শিল্পকর্মের মাধ্যমে আধুনিক চিত্রকলায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছেন।
মৃত্যু মানুষের জীবনের সমাপ্তি ঘটালেও তার কর্ম ও সৃষ্টির মৃত্যু হয় না। এসব গুণী ব্যক্তির আবিষ্কার, চিন্তা, সৃজনশীলতা ও অর্জন পরবর্তী প্রজন্মকে পথ দেখিয়ে যাচ্ছে। ৩১ অক্টোবর তাদের স্মরণ করার মধ্য দিয়ে আমরা বিশ্বজুড়ে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মানবসভ্যতায় তাদের অবদানকে শ্রদ্ধা জানাই।