সময়ের পরিক্রমায় পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন বহু গুণী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তাদের সৃজনশীলতা, আবিষ্কার, নেতৃত্ব ও কর্মের মধ্য দিয়ে তারা রেখে গেছেন স্মরণীয় অবদান। ২ নভেম্বর এমনই কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুবার্ষিকী। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আটজনের পরিচিতি তুলে ধরা হলো।
২ নভেম্বর প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা-
জর্জ বার্নার্ড শ (১৯৫০)
আইরিশ নাট্যকার, সাহিত্যিক ও সমালোচক জর্জ বার্নার্ড শ ১৯৫০ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন। ‘পিগম্যালিয়ন’সহ অসংখ্য নাটকের রচয়িতা তিনি। ১৯২৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
এনগো দিন দিয়েম (১৯৬৩)
দক্ষিণ ভিয়েতনামের প্রথম প্রেসিডেন্ট এনগো দিন দিয়েম ১৯৬৩ সালের ২ নভেম্বর নিহত হন। দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে তার শাসনামল ছিল অত্যন্ত ঘটনাবহুল। সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তার শাসনের অবসান ঘটে।
পিটার ডিবাই (১৯৬৬)
খ্যাতিমান পদার্থবিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ পিটার ডিবাই ১৯৬৬ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন। পদার্থ ও অণুর গঠন নিয়ে তার গবেষণা বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৩৬ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
জেমস থারবার (১৯৬১)
মার্কিন লেখক, রম্যরচয়িতা ও কার্টুনিস্ট জেমস থারবার ১৯৬১ সালের ২ নভেম্বর মারা যান। তার ব্যঙ্গাত্মক লেখা ও কার্টুন পাঠকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। দ্য নিউ ইয়র্কার সাময়িকীতে তার কাজ বিশেষ পরিচিতি লাভ করে।
পিয়ের পাওলো পাসোলিনি (১৯৭৫)
ইতালির প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, কবি ও লেখক পিয়ের পাওলো পাসোলিনি ১৯৭৫ সালের এই দিনে নিহত হন। ‘দ্য গসপেল অ্যাকর্ডিং টু সেন্ট ম্যাথিউ’ ও ‘সালো’ তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্র ও সাহিত্যে নিজস্ব নির্মাণশৈলীর জন্য তিনি স্মরণীয়।
হাল রোচ (১৯৯২)
হলিউডের বিখ্যাত পরিচালক ও প্রযোজক হাল রোচ ১৯৯২ সালের ২ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। ‘লরেল অ্যান্ড হার্ডি’ এবং ‘আওয়ার গ্যাং’ সিরিজের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। নির্বাক ও সবাক—দুই যুগের চলচ্চিত্রেই তার অবদান রয়েছে।
ইভা ক্যাসিডি (১৯৯৬)
মার্কিন সংগীতশিল্পী ইভা ক্যাসিডি ১৯৯৬ সালের এই দিনে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে মারা যান। লোকসংগীত, জ্যাজ, ব্লুজ ও গসপেল গানে তার অসাধারণ কণ্ঠের পরিচয় পাওয়া যায়। মৃত্যুর পর তার গান আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান (২০০৪)
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান ২০০৪ সালের ২ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭১ সালে আমিরাত প্রতিষ্ঠায় তিনি নেতৃত্ব দেন। দেশটির আধুনিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও উন্নয়নে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিটি মানুষের জীবন একদিন শেষ হলেও তাদের কর্ম ও অবদান থেকে যায় ইতিহাসের পাতায়। ২ নভেম্বর প্রয়াত এসব ব্যক্তিত্ব নিজ নিজ ক্ষেত্রে যে স্মৃতি ও কীর্তি রেখে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।