ইতিহাস, সাহিত্য, অর্থনীতি, চলচ্চিত্র, সংগীত ও ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখা বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করেছেন ৩ নভেম্বর। তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও কর্মের মাধ্যমে কেউ বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন, কেউবা ইতিহাসে রেখে গেছেন স্থায়ী ছাপ। এই দিনে জন্ম নেওয়া উল্লেখযোগ্য কয়েকজন ব্যক্তিত্বের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো।
অমর্ত্য সেন (১৯৩৩) বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক অমর্ত্য সেন ১৯৩৩ সালের ৩ নভেম্বর ভারতের শান্তিনিকেতনে জন্মগ্রহণ করেন। দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ, সামাজিক বৈষম্য ও মানবকল্যাণ নিয়ে তার গবেষণা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তিনি। বাংলাদেশের ঢাকার সঙ্গে তার পারিবারিক শিকড়ের সম্পর্ক রয়েছে।
আঁদ্রে মালরো (১৯০১) ফরাসি সাহিত্যিক, শিল্পতাত্ত্বিক ও রাজনীতিবিদ আঁদ্রে মালরো ১৯০১ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার সাহিত্যকর্মে মানবজীবনের সংকট, বিপ্লব ও অস্তিত্বের নানা দিক উঠে এসেছে। Man’s Fate উপন্যাসের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
চার্লস ব্রনসন (১৯২১) হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা চার্লস ব্রনসন ১৯২১ সালের ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। অ্যাকশন ও অপরাধনির্ভর চলচ্চিত্রে শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য তিনি বিশেষ পরিচিতি পান। The Magnificent Seven, The Great Escape ও Death Wish তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। ২০০৩ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
জন ব্যারি (১৯৩৩) ব্রিটিশ চলচ্চিত্র সংগীত পরিচালক ও সুরকার জন ব্যারি ১৯৩৩ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। জেমস বন্ড চলচ্চিত্র সিরিজের সংগীত তৈরিতে তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। Out of Africa ও Dances with Wolves চলচ্চিত্রের সংগীতও তাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেয়। ২০১১ সালে তিনি মারা যান।
ওসামু তেজুকা (১৯২৮) জাপানি মাঙ্গা শিল্পী, অ্যানিমেটর ও চিকিৎসক ওসামু তেজুকা ১৯২৮ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাকে আধুনিক জাপানি মাঙ্গা ও অ্যানিমেশনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। Astro Boy ও Kimba the White Lion তার বিখ্যাত সৃষ্টি। ১৯৮৯ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মনিকা ভিত্তি (১৯৩১) ইতালির বিখ্যাত অভিনেত্রী মনিকা ভিত্তি ১৯৩১ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ইতালীয় চলচ্চিত্র পরিচালক মিকেলাঞ্জেলো আন্তোনিওনির চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। অভিনয়ের পাশাপাশি কৌতুকধর্মী চরিত্রেও অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ২০২২ সালে তার মৃত্যু হয়।
আনা উইনটুর (১৯৪৯) বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন সাংবাদিক ও সম্পাদক আনা উইনটুর ১৯৪৯ সালের ৩ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৩৭ বছর যুক্তরাষ্ট্রের Vogue সাময়িকীর প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ফ্যাশন জগতে নতুন ধারা প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিভাবান ডিজাইনারদের তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে তিনি Vogue-এর গ্লোবাল এডিটোরিয়াল ডিরেক্টর।
ডলফ লুন্ডগ্রেন (১৯৫৭) সুইডিশ অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক ও মার্শাল আর্টশিল্পী ডলফ লুন্ডগ্রেন ১৯৫৭ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। হলিউডের অ্যাকশন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। Rocky IV, The Expendables ও The Punisher তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। অভিনয়ের পাশাপাশি মার্শাল আর্টেও তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।
আদম অ্যান্ট (১৯৫৪) ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা আদম অ্যান্ট ১৯৫৪ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। আশির দশকের জনপ্রিয় নিউ ওয়েভ সংগীতধারায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। Stand and Deliver ও Prince Charming তার জনপ্রিয় গান। নিজস্ব পোশাক ও পরিবেশনার বৈশিষ্ট্যের জন্যও তিনি পরিচিত।
গের্ড মুলার (১৯৪৫) জার্মানির কিংবদন্তি ফুটবলার গের্ড মুলার ১৯৪৫ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। গোল করার অসাধারণ দক্ষতার কারণে তিনি ‘ডার বোম্বার’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী পশ্চিম জার্মানি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। ২০২১ সালে তার মৃত্যু হয়।
ইতিহাস, সাহিত্য, অর্থনীতি, চলচ্চিত্র, সংগীত ও ক্রীড়াঙ্গনে অবদান এসব ব্যক্তিত্ব নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। অর্থনীতি থেকে চলচ্চিত্র, সাহিত্য থেকে সংগীত কিংবা ক্রীড়াঙ্গন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবদান বিশ্বসংস্কৃতি ও ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। সময়ের ব্যবধানে কেউ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন, আবার কেউ এখনো নিজ নিজ ক্ষেত্রে সক্রিয় রয়েছেন। তবে কর্ম ও কৃতিত্বের মধ্য দিয়ে তারা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।




