আজ ১৪ অক্টোবর, ঐতিহাসিক আবাইপুর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন ১৪ বীর মুক্তিযোদ্ধা। একই সময়ে প্রাণ হারান চারজন সাধারণ গ্রামবাসীও। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে দিনটি ঝিনাইদহবাসীর কাছে শোক, গৌরব ও আত্মত্যাগের স্মারক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের এই দিনে আবাইপুর এলাকায় অবস্থান নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে চলা তীব্র যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে হানাদার বাহিনীর গুলিতে ১৪ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পরে বাহিনীটি গ্রাম ছাড়ার সময় তাদের সামনে পড়ে চার গ্রামবাসীও নিহত হন।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা হলেন—শৈলকুপার শেখপাড়ার নজরুল ইসলাম, বন্দেখালীর আবুল হোসেন, সিদ্ধি গ্রামের আবু জাফর, দহকোলার ইসমাইল হোসেন, জালশুকার চেতন জোয়ারদার, সুবিদাহ গোবিন্দপুরের ইউসুফ আলী, দোহারোর আলিমুদ্দিন, বরিয়ার সিমার, বগুড়ার আবু সুফিয়ান, মিনগ্রামের সিরাজুল, বরিয়ার কাসেম আলী, খাসবগদিয়ার আজিবর হোসেন, বরিয়ার শাহাদত হোসেন ও কাজীপাড়ার বাবর আলী।
এ ছাড়া নিহত চার গ্রামবাসী হলেন বরিয়া গ্রামের মকছেদ আলী, মিনগ্রামের শরীফুল ইসলাম, মাধবপুরের রুস্তম আলী ও আবাইপুরের সৈয়দ আলী। যুদ্ধের পর স্থানীয়রা শহীদদের মরদেহ আবাইপুর প্রাঙ্গণে সমাহিত করেন। দিবসটি উপলক্ষে ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে আবাইপুরে শহীদদের মাজার প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বিশেষ দোয়া ও স্মৃতিচারণমূলক সভা।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান বলেন, আবাইপুরের যুদ্ধ ঝিনাইদহবাসীর কাছে আত্মত্যাগের প্রতীক। শহীদদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে হবে।