দেওয়ানি কার্যবিধির নির্ধারিত বিধান অনুসরণ না করে ঋণসংক্রান্ত মামলায় রায় ঘোষণার আগেই বিবাদীদের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ এবং বিবাদীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এ ধরনের আদেশ দেওয়ার সুযোগ নেই।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ এ রায় দেন। ঢাকার অর্থ ঋণ আদালতে একটি ব্যাংকের করা সম্পত্তি ক্রোকের আদেশের বৈধতা নিয়ে দায়ের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত আসে।
মামলার নথি অনুযায়ী, একটি ব্যাংক তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে ১৪৮ কোটি ১৯ লাখ ২ হাজার ৮১০ টাকা আদায়ের দাবিতে মামলা করে। পরবর্তী সময়ে ব্যাংক দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৮ আদেশের ৫ বিধি ও ১৫১ ধারায় বিবাদীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন করে। গত বছরের ১৮ নভেম্বর অর্থ ঋণ আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
এ আদেশের বিরুদ্ধে বিবাদীদের একজন ২০২৬ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানিতে আদালত রুল জারির পাশাপাশি ক্রোক আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছিলেন।
চূড়ান্ত শুনানিতে রিটকারীর আইনজীবী তাইসির হক যুক্তি দেন, সম্পত্তি হস্তান্তরের আশঙ্কার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণ ছাড়াই ব্যাংক আবেদন করেছে। একই সঙ্গে বিবাদীদের জামানত জমা দেওয়া কিংবা ক্রোকের কারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে ব্যাংকের আইনজীবী মারগুব কবি ও তাইসির মাহমুদ দাবি করেন, ঋণগ্রহীতারা পরস্পরের যোগসাজশে সম্পত্তি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে ক্রোকের আদেশ যথাযথ ছিল।
উভয় পক্ষের বক্তব্য ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট জানান, দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৮ আদেশের ৫ ও ৬ বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। প্রথমে বিবাদীকে সম্পত্তির সমপরিমাণ জামানত দেওয়ার নির্দেশ অথবা কেন জামানত দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এরপরও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হলেই কেবল ক্রোকের আদেশ দেওয়া যেতে পারে।
আদালত অর্থ ঋণ আদালতের আগের আদেশের বৈধতা নাকচ করে রিটের রুল চূড়ান্তভাবে মঞ্জুর করেন। তবে আইন মেনে ব্যাংক চাইলে নতুন করে ক্রোকের আবেদন করতে পারবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।