সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অর্থ সংগ্রহ এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত মেজর ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) শাখার পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
আদালতে শুনানির সময় আসামিকে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হারুন অর রশীদ রিমান্ডের পক্ষে বক্তব্য দেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, খন্দকার আব্দুল হাফিজ কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে মিলে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ এবং উসকানিমূলক প্রচার চালিয়েছেন। ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামে দুটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও প্রচারণার মাধ্যমে সহিংসতায় উসকানি এবং সরকারবিরোধী তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডে অন্য কারা জড়িত, অর্থের উৎস কী এবং ডিজিটাল মাধ্যমে কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা সহযোগীদের শনাক্ত, সম্ভাব্য ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
গত ১২ অক্টোবর পল্লবী থানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আলী আকবর বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই মামলায় কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অর্থ সংগ্রহ, অনলাইনে উসকানিমূলক প্রচারণা এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।