ডার্ক ওয়েবে তথ্য ফাঁস থেকে শুরু করে বড় ধরনের সাইবার হামলা—ডিজিটাল নিরাপত্তার নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সাইবার সংকট প্রতিরোধে সরকারি সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি।
সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাসের সমাপনী উপলক্ষে শনিবার (৩১ অক্টোবর) ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় গোলটেবিল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধীন সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (সিএসসি) এ আয়োজন করে। আলোচনার প্রতিপাদ্য ছিল ‘From Dark Web Exposure to National Cyber Crisis: Is Bangladesh Prepared?’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফখরায় হোসেন। আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ইমরান মাহমুদ। সঞ্চালনা করেন সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক ড. রুবাইয়াত ইসলাম।
এতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ইউনিট, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি এবং বিজিডি ই-গভ সার্টের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও আইন পেশার প্রতিনিধিরাও।
আলোচনায় ডার্ক ওয়েবে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং এ ধরনের ঘটনা কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। সাইবার হামলার ঘটনা শনাক্ত, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।
তারা বলেন, সাইবার অপরাধের ধরন ও কৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু প্রযুক্তিগত সুরক্ষা নয়, দক্ষ জনবল, আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং সমন্বিত প্রতিরোধব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।
গোলটেবিলের একটি পর্বে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ডার্ক ওয়েব ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে তাদের গবেষণা ও প্রকল্প উপস্থাপন করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী কাজের সঙ্গে বাস্তব নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সংযোগ স্থাপন এবং গবেষণায় উৎসাহ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বক্তারা মনে করেন, সাইবার নিরাপত্তায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো প্রয়োজন। নিয়মিত সংলাপ, পেশাগত জ্ঞান বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর সুরক্ষা আরও কার্যকর করা সম্ভব।
আয়োজকরা জানান, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণে সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার কাজ করে যাচ্ছে।




