চাঁদাবাজির মামলায় আসামিরা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী এবং শিক্ষানবিশ আইনজীবী খায়রুল ইসলাম খোকন। তাঁর অভিযোগ, জামিনের পর তাঁর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বাড়ি ফেরার পথে তাঁকেও মারধর করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। সোমবার ঢাকার কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন খায়রুল ইসলাম খোকন। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার চাতৈইলাভিটি গ্রামের বাসিন্দা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের কাছে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। 
খোকনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশীদের একটি দল দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এবং বিভিন্ন অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। এ ঘটনায় তিনি গত ১৪ জুন গাজীপুর আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন। পরে আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য গাজীপুর শিল্প পুলিশকে নির্দেশ দেন। বাদীর দাবি, তদন্ত শেষে পুলিশ তাঁর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর গত ৬ অক্টোবর মামলার আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান। 
তাঁর অভিযোগ, জামিনের খবর পাওয়ার পর আসামিদের লোকজন তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। খোকন আরও অভিযোগ করেন, আদালত থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে বাড়ির সামনে আটকে মারধর করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও হামলার শিকার হন। তাঁদের মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় খোকনকে প্রথমে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এ ঘটনায় খোকনের আত্মীয় মোহাম্মদ রিফাত হোসেন কালিয়াকৈর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। 
ওই মামলায় ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৫ জন গত রোববার গাজীপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাঁদের মধ্যে ১৩ জনকে জামিন দেন এবং নুরুন্নাহার ও সেতু নামের দুই আসামিকে কারাগারে পাঠান। খোকনের আরও অভিযোগ, জামিন পাওয়া ব্যক্তিরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও এখানে উপস্থাপিত হয়নি।