পোষা বিড়াল পরিবারের প্রিয় সদস্য হলেও তার শরীরে থাকা কিছু পরজীবী ও জীবাণু মানুষের শরীরেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে। বিড়ালের মল, দূষিত মাটি, অপরিষ্কার লিটার বক্স এবং আঁচড় বা কামড়ের মাধ্যমে এসব সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও নিয়মিত পশুচিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বিড়ালের মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে এমন পরজীবীর মধ্যে রয়েছে টক্সোপ্লাজমা, গোলকৃমি, হুকওয়ার্ম ও ফিতাকৃমি। টক্সোপ্লাজমা গন্ডি নামের অণুজীবের কারণে টক্সোপ্লাজমোসিস রোগ হয়। সংক্রমিত বিড়ালের মলে দূষিত লিটার, মাটি বা খাবারের মাধ্যমে এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে অনেক সময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে গর্ভবতী নারী ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিড়ালের মলে থাকা গোলকৃমির ডিম দূষিত মাটি বা হাতের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এর লার্ভা চোখসহ বিভিন্ন অঙ্গে ক্ষতি করতে পারে। অন্যদিকে, দূষিত মাটি বা বালিতে থাকা হুকওয়ার্মের লার্ভা খালি পায়ের ত্বক ভেদ করে শরীরে ঢুকতে পারে। এতে ত্বকে তীব্র চুলকানি ও আঁকাবাঁকা লাল দাগ দেখা দিতে পারে। সংক্রমিত মাছি গিলে ফেললে কিছু ফিতাকৃমিও মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে।
পরজীবীর বাইরেও বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ এবং সংস্পর্শের মাধ্যমে দাদসহ ছত্রাকজনিত রোগ ছড়াতে পারে। তাই বিড়াল ধরার পর এবং লিটার বক্স পরিষ্কারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বিড়ালের বয়স ও ওজন বিবেচনায় পশুচিকিৎসকের নির্দেশনায় কৃমিনাশক দিতে হবে এবং মাছি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রতিদিন লিটার বক্স পরিষ্কার করা, গ্লাভস ব্যবহার এবং বিড়ালকে কাঁচা মাংস না খাওয়ানোর বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ে চামড়া কেটে গেলে ক্ষতটি সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ধুয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জলাতঙ্কের ঝুঁকিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
গর্ভবতী নারীদের সম্ভব হলে অন্য কাউকে দিয়ে লিটার বক্স পরিষ্কার করানো উচিত। ত্বকে অস্বাভাবিক লাল দাগ, ক্ষত ফুলে যাওয়া, জ্বর, চোখে সমস্যা বা দৃষ্টির পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসা নিতে হবে। বিড়াল পোষা মানেই পরজীবীতে আক্রান্ত হওয়া নয়। বিড়ালকে স্পর্শ করলেই টক্সোপ্লাজমোসিস হয় না। সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত পশুচিকিৎসাই পোষা প্রাণী ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)