অধিকৃত পশ্চিম তীরে মার্কিন ফটোসাংবাদিক হেইডি লেভিনের ওপর হামলার ঘটনায় ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন’ যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি দখলদারদের সহিংসতা বন্ধে তেল আবিবকে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীরে নতুন করে উত্তেজনা দেখতে চান না বলেও জানান তিনি।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, এ ধরনের সহিংসতা কঠোরভাবে দমনের জন্য ইসরায়েলকে বলা হয়েছে। হামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে ওয়াশিংটন। তার ভাষ্য, পশ্চিম তীরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হোক, তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান না।
শুক্রবার ফিলিস্তিনিদের বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহের সময় হেইডি লেভিনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি দখলদারদের একটি দল তাকে ও কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে মারধর করে। হামলাকারীরা তার পাসপোর্ট, ফোন, মানিব্যাগ ও ক্যামেরার সরঞ্জামও নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
লেভিন জানান, বোতল ও গুলতি হাতে থাকা হামলাকারীরা প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাকে লাথি মারে। এ সময় তিনি ক্যামেরা ও ব্যাগ আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেন।
ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি হামলাটিকে মুখোশধারীদের সংঘটিত ‘জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেন। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করা এবং দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গত বছর ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনেই ইসরায়েলি দখলদারদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছিলেন ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অর্থ এই নয় যে প্রেসিডেন্ট এ ধরনের হামলাকে সমর্থন করেন।
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে সহিংসতার ঝুঁকি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, হামলাকারীদের জবাবদিহি এবং অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এখন ওয়াশিংটনের উদ্বেগের অন্যতম বিষয়।




