বয়স ৯১ পেরোলেও অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন না ডেম জুডি ডেঞ্চ। হলিউডের এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর কাছে অবসর নেওয়ার ধারণাটিই অপছন্দের। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্রাম নেওয়ার সময় হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, একেবারেই নয়।’
শুধু অবসর নয়, প্রবীণ বা বৃদ্ধ—এ ধরনের শব্দও পছন্দ করেন না ডেঞ্চ। তাকে ‘জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে বর্ণনা করাও তার ভালো লাগে না। অভিনয়ের বাইরে নিজেকে অন্য কোনো পরিচয়ে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না এই অভিনেত্রী। মঞ্চে অভিনয় শেষ করে থিয়েটারের সাজঘরেই জীবনের শেষ মুহূর্ত কাটানোর ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অভিনেতা নিউটন ব্লিকের কথা স্মরণ করে ডেঞ্চ বলেন, মঞ্চে অভিনয়ের পর থিয়েটারের সাজঘরে তার মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনাই ডেঞ্চের কাছে অভিনয়ের সঙ্গে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যুক্ত থাকার আকাঙ্ক্ষাকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে। এর আগেও অবসরকে নিজের অভিধানের সবচেয়ে অভদ্র শব্দ বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
নিজের বয়স ও দীর্ঘ জীবন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন ডেঞ্চ। শতবর্ষ পর্যন্ত বেঁচে থাকার ইচ্ছা থাকলেও ৯০ বছরে পা দেওয়ার সময় কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন। বন্ধু বারবারা লেই-হান্ট ও ম্যাগি স্মিথের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে বয়সের সঙ্গে তার দৃষ্টিশক্তির সমস্যা বেড়েছে। ২০১২ সালে বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ সমস্যার সঙ্গে লড়ছেন ডেঞ্চ। তার মায়েরও একই রোগ ছিল। এখন চিত্রনাট্য পড়ার জন্য অন্যের সহায়তা নিতে হয়। কেউ পড়ে শোনালে তা অনুসরণ করে সংলাপ ও অভিনয়ের প্রস্তুতি নেন তিনি।
দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অভিনয়ের সময় স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেন ডেঞ্চ। তার কথায়, ‘আমি এমনভাবে অভিনয় করতে বেশ ভালোই পারি, যেন সবকিছু দেখতে পাচ্ছি।’ ২০২৪ সালের মে মাসে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চোখের সমস্যার কারণে চলচ্চিত্রে কাজ করা হয়তো আর সম্ভব হবে না। তবে মঞ্চে অভিনয়ের প্রতি তার টান এখনো রয়েছে।
জেমস বন্ড চলচ্চিত্রমালায় ‘এম’ চরিত্রে অভিনয়ের স্মৃতিও উঠে এসেছে সাক্ষাৎকারে। ডেঞ্চের মতে, ওই চরিত্রের মাধ্যমে পুরুষদের স্পষ্টভাবে তাদের সীমা বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল বিশেষ আনন্দের। তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নেওয়ার খবর শুনে কেঁদেছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনও তিনি অস্বীকার করেন।
১৯৫৭ সালে ওল্ড ভিক থিয়েটারের মাধ্যমে পেশাদার অভিনয় শুরু করেন জুডি ডেঞ্চ। ‘শেক্সপিয়র ইন লাভ’ চলচ্চিত্রে রানি প্রথম এলিজাবেথের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অস্কার পান তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ার, খ্যাতি ও বয়সের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর টানই এখন সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে আছে।




