চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেছেন, পদত্যাগ কিংবা ক্যাম্পাসে আর না ফেরার কোনো শর্তে তিনি সম্মতি দেননি। চিকিৎসা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে এনে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার কথা জানিয়েছেন উপাচার্য।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে অবরুদ্ধ থাকার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে হাসপাতালে এসেছেন। এখনো চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। সুস্থ হলে চুয়েট নিয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা জানাতে সংবাদ সম্মেলন করবেন।
সোমবার দায়িত্ব গ্রহণের ১৭ দিন পর প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ে যান শেখ শরীফুল আলম। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে উপাচার্য ভবনে তালা লাগিয়ে দিলে উপাচার্যসহ ১২ জন সেখানে আটকা পড়েন।
মঙ্গলবার দুপুরে বুকে ব্যথার কথা জানিয়ে প্রশাসনের সহায়তা চান তিনি। সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের সহায়তায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের হন উপাচার্য। এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি আর ক্যাম্পাসে ফিরবেন না—এমন শর্তে তাকে বের হতে দেওয়া হয়েছে। পরে পুলিশি প্রহরায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিক্ষার্থীদের এ বক্তব্যের বিপরীতে উপাচার্য বলেন, তিনি পদত্যাগ করেননি এবং ক্যাম্পাসে আর পা রাখবেন না—এমন কোনো প্রতিশ্রুতিও দেননি। তার দাবি, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় অবরুদ্ধ থাকার কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার বক্তব্য না নিয়ে পদত্যাগের খবর প্রকাশ করাকে তিনি দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে জানিয়ে শেখ শরীফুল আলম বলেন, তিনি নিজেও চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী। দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে এক দিনও না দেখেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, কোনো স্বার্থান্বেষী মহল শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করে থাকতে পারে। তবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে চান।
উপাচার্য আরও বলেন, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা দলীয় উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি চট্টগ্রামে আসেননি; রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতেই এসেছেন। সুস্থ হয়ে দায়িত্বে ফিরতে চান তিনি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন এবং ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।