কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি, সবুজ গাছপালা আর নির্মল বাতাসের মেলবন্ধনে রাঙ্গামাটি শহরে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ‘আরএইচডি লেক ভিউ গার্ডেন’। ফিসারি বাঁধসংলগ্ন এলাকায় গড়ে তোলা এ বাগানে রয়েছে ছায়াঘেরা হাঁটার পথ, নানা প্রজাতির গাছপালা ও হ্রদের মনোরম দৃশ্য উপভোগের সুযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত এ বিনোদনকেন্দ্রে প্রবেশ করতে কোনো টিকিট লাগে না।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গার্ডেনটিতে পুলিশ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে পুলিশ বক্সটি জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ফিতা কেটে এর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুল রকিব ও সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা।
পুলিশ সুপার বলেন, লেক ভিউ গার্ডেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র। এখানে বিনামূল্যে ঘোরার সুযোগ রয়েছে। পুলিশ বক্স স্থাপনের ফলে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং তারা নির্বিঘ্নে সময় কাটাতে পারবেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, রাঙ্গামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও কাপ্তাই হ্রদের দৃশ্য উপভোগের সুযোগ তৈরি করতেই গার্ডেনটি গড়ে তোলা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পুলিশ বক্সটি জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গার্ডেনটিতে প্রায় ১০০ প্রজাতির উদ্ভিদ সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে এটি বিনোদনকেন্দ্রের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও উদ্ভিদপ্রেমীদের জন্যও আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাঙ্গামাটি শহরে বিনা মূল্যে অবসর কাটানোর জায়গা সীমিত হওয়ায় গার্ডেনটি স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সড়ক বিভাগের উদ্যোগে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। এর অবস্থান ফিসারি বাঁধের পাশে, যেখান থেকে কাপ্তাই হ্রদের বিস্তৃত জলরাশি ও আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
১৯৬৪ সালে রাঙ্গামাটি শহরের বনরূপা, রিজার্ভ বাজার ও তবলছড়ির মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে ফিসারি সংযোগ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালে পাহাড়ধস ও অতিবৃষ্টিতে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরে বাঁধের সুরক্ষা, সড়ক সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ২০১৯ সালে এ কাজে ২৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
রাঙ্গামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এসএম শামশুল আলম বলেন, ফিসারি বাঁধ সংযোগ সড়কটি শহরের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সড়ক। এর সংরক্ষণ ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ প্রশংসনীয়। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে রাঙ্গামাটিতে আরও পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।
কাপ্তাই হ্রদ, সবুজ পাহাড় ও ঝরনাকে ঘিরে রাঙ্গামাটির পর্যটন সম্ভাবনা দীর্ঘদিনের। নতুন এই গার্ডেন সেই আকর্ষণে যোগ করেছে আরেকটি মাত্রা। পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে স্থানটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছেও আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।