চট্টগ্রামের চন্দনাইশে মোহাম্মদ হাশেম (৩৭) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী আয়শা আকতারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে স্ত্রীসহ পাঁচ থেকে সাতজনের মারধরে হাশেমের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বরুমতি সেতু সংলগ্ন সড়ক থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাশেমকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ডান পায়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তিনি সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বাদশাপাড়া এলাকার বানু মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে হাশেমের বাবা বানু মিয়া বাদী হয়ে চন্দনাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তার স্ত্রীকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে হত্যাকাণ্ডে আয়শার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে তাকে আটক করা হয়।
নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ মোস্তাকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৬ বছর আগে হাশেম ও আয়শার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তির অংশ বিক্রি করে হাশেম প্রায় এক দশক আগে স্ত্রীর বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সেখানে স্ত্রীর নামে জমি লিখে দিয়ে বাড়িও তৈরি করেছিলেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফেরার পর হাশেমের সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বিভিন্ন সময় তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। গত মাসেও মারধরে তার মাথায় আঘাত লাগে। সর্বশেষ বুধবার রাতে শ্বশুরবাড়িতে তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি স্বজনদের। তাদের অভিযোগ, পরদিন ভোরে অটোরিকশায় করে তাকে মহাসড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।
আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান জানান, হাশেমের ওপর হামলায় পাঁচ থেকে সাতজন অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মারধরে তার ডান পা ভেঙে যায়। ঘটনার পেছনের কারণ ও জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।




