২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন চলমান ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বৈদেশিক উৎস থেকে ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪ হাজার ৭১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩ হাজার ৩৮১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব আর্থিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়। কমিটির সভাপতি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এবং বাস্তবে উৎপাদনের পরিমাণ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১২ হাজার ২২ মেগাওয়াট। তবে বাস্তবে এ উৎস থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট হলেও প্রকৃত উৎপাদন ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে, তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৬ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট। এ খাতে দৈনিক গড়ে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, রফিকুল ইসলাম হিলালী, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মমতাজ আলো, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও মো. আবুল হাসনাত উপস্থিত ছিলেন।
 পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বৈঠক শুরু হয়। পরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের পরিচয়পর্ব শেষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও বাজেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিষয়ে জানানো হয়, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রুফটপ সোলার স্থাপনকারী গ্রাহকেরা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের বিপরীতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন। এ ব্যবস্থার আওতায় বর্তমানে কত পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, সে বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত বিভিন্ন লিখিত প্রশ্নের উত্তরও পরবর্তী বৈঠকে জমা দিতে বলা হয়েছে। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীন দপ্তরগুলোর প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।