সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
সোমবার রাতে রিয়াদে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর আগে মোবাইল ফোনে আকাশপথে হামলার আশঙ্কা জানিয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। সৌদি সামরিক মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।
হুতি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাগুলো প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
হুতিদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির অন্য অঞ্চলের আকাশসীমা নিরাপদ নয় বলেও দাবি করেছে তারা। এটি হুতিদের বক্তব্য; সৌদি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা মূল্যায়ন নয়।
ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন
হামলার প্রভাবে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে সৌদিগামী ও সৌদি আরব থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটের যাত্রীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। কিছু উড়োজাহাজ সংস্থা ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে, আবার কিছু সংস্থা বিকল্প পথে চলাচলের ব্যবস্থা করছে।
এ পরিস্থিতিতে কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মী, ছুটি শেষে সৌদি আরবে ফিরতে চাওয়া প্রবাসী এবং ব্যবসায়িক কাজে যাতায়াতকারীদের ভ্রমণসূচি ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিমান চলাচল, পর্যটন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগে প্রভাব পড়তে পারে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা
রিয়াদকে লক্ষ্য করে বারবার হামলার দাবির পর সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত লক্ষ্য, ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রতিরোধব্যবস্থার কার্যকারিতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় পরিস্থিতির সামগ্রিক মূল্যায়ন কঠিন।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, হুতিরা ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এই সংঘাতের সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
হামলা অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে চাপ বাড়তে পারে। পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ জোরদার হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে।