ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। যন্তর মন্তরে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে আটক হাজারো বিক্ষোভকারীর অনেককে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীসহ চারজনের পুলিশি হেফাজতে থাকার খবর পাওয়া গেছে। ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে সিজেপি। দলটির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করতে শুরু করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তির সংখ্যা কয়েক হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের নামও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের অনেককে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও তাঁর সহযোগীদের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আটক করার খবর পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসও রয়েছেন। মহারাষ্ট্রে অভিজিতের দাদির মৃত্যুর পর তিনি সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে পরিবারের শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
অন্যদিকে, গুরুগ্রাম থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে আটকের খবরও সামনে আসে। দিল্লি হাট এলাকার কাছে বিক্ষোভের সময় অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরার ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁকে পুলিশি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বিক্ষোভের প্রভাব পড়ে রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থায়ও। নিরাপত্তার কারণে ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এছাড়া ২৫০টির বেশি ট্রেন বাতিল এবং যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার তথ্যও উঠে এসেছে। সিজেপি জানিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন যন্তর মন্তরে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোট ইন্ডিয়া সোমবার আরও বড় কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।