বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বিদ্যমান টানাপোড়েন নিরসনে পারস্পরিক দোষারোপের পরিবর্তে আস্থা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর। তার ভাষ্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতিতে দুই দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সম্প্রতি ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে এসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিমত তুলে ধরেন।
বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধ ও অনাস্থার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আস্থা পুনর্গঠনের আলোচনা থাকলেও সব জটিলতার সমাধান হয়নি। ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও দুই দেশের সম্পর্কের আলোচনায় রয়েছে।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে কি না, সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান এম জে আকবর। তবে অতীতের একটি ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি ছিল।
ঘটনাটি স্মরণ করার মধ্য দিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পারস্পরিক অবস্থানের প্রভাবের প্রসঙ্গ সামনে আসে। ঢাকা সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয়েছে এম জে আকবরের। সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কথা বলার ধরনকে তাঁর বাবার মতো নরম সুরের বলে বর্ণনা করেন।
বিশ্লেষকদের কাছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দুই দেশ কীভাবে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়াতে পারে। এম জে আকবরের বক্তব্যেও সেই প্রয়োজনের প্রতিফলন রয়েছে। সম্পর্কের ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বাস্তব উদ্যোগের ওপর।