একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় কিছু ঘটনা সময়ের সীমানা পেরিয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকে। ব্রজলাল কলেজে প্রথম নারী শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপক মুক্তি মজুমদারের যোগদান তেমনই একটি ঘটনা। ১৯৭৩ সালে দর্শন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে তার আগমন কলেজটির দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রায় যুক্ত করে নতুন এক অধ্যায়।
১৯০২ সালে প্রতিষ্ঠার সময় ব্রজলাল কলেজে সহশিক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। পরবর্তী সময়ে সামাজিক ও শিক্ষাগত পরিবর্তনের ধারায় ১৯৫৬ সালে প্রথম দুজন ছাত্রী ভর্তি হন। এর মধ্য দিয়ে কলেজে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ শুরু হয়। তবে নারী শিক্ষকের অন্তর্ভুক্তির জন্য অপেক্ষা করতে হয় আরও ১৭ বছর।
১৯৭৩ সালে অধ্যাপক মুক্তি মজুমদার দর্শন বিভাগে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। তিনি হয়ে ওঠেন কলেজটির প্রথম নারী শিক্ষক। তার এই অবস্থান ব্রজলাল কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
একই সময় কলেজের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমেও সম্প্রসারণ ঘটে। বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে প্রথমবারের মতো স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করা হয়। ফলে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়।
অধ্যাপক মুক্তি মজুমদারকে ঘিরে কলেজের ইতিহাসের এই অধ্যায় কেবল অতীতের একটি তথ্য নয়। এটি শিক্ষাঙ্গনে নারীর অগ্রযাত্রা, সমান অংশগ্রহণ এবং প্রগতিশীল চিন্তার বিকাশের সাক্ষ্য বহন করে। শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে পরিচয় তার জীবন ও কর্মে প্রতিফলিত হয়েছে, তা ব্রজলাল কলেজের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইতিহাসের পাতা উল্টালে তাই অধ্যাপক মুক্তি মজুমদারের নাম উঠে আসে বিশেষ মর্যাদায়। তিনি শুধু কলেজটির প্রথম নারী শিক্ষক নন, বরং প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে নারী শিক্ষকের পথচলার সূচনাকারী এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব।