দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। বিজয়া দশমীর বিসর্জনে প্রতিমা থেকে বিদায় নিলেন দেবী, তবে রেখে গেলেন সম্প্রীতি, শক্তি, সাহস ও অশুভের বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়ের বার্তা।
বিজয়া দশমীতে পূজা, অঞ্জলি, সিঁদুর খেলা, আরতি ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। পরে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির আবহে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পাঁচ দিনের উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
দুর্গোৎসব কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতিরও এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। পূজামণ্ডপ ঘিরে মানুষের মিলন, আনন্দ ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা উৎসবকে দিয়েছে সর্বজনীন মাত্রা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণে অনেক স্থানেই সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
পুরাণের কাহিনিতে মহিষাসুরের বিরুদ্ধে দেবী দুর্গার বিজয় অন্যায়, অশুভ ও অন্ধকারের বিরুদ্ধে ন্যায়, সত্য ও শুভশক্তির জয়ের প্রতীক। সেই তাৎপর্যই প্রতি বছর নতুন করে মনে করিয়ে দেয় দুর্গোৎসব। দেবীর বিদায় তাই শুধু বিষাদের নয়, বরং নতুন প্রত্যয় নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ারও উপলক্ষ।
প্রতিমা বিসর্জনের পর মণ্ডপে মণ্ডপে নেমে আসে উৎসব-পরবর্তী নীরবতা। তবে ভক্তদের মনে থেকে যায় দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা, আগামী বছরের অপেক্ষা এবং শান্তি ও কল্যাণের প্রত্যাশা। প্রতিমা বিসর্জনে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও শুভশক্তির জয়, মানবিকতা ও সম্প্রীতির যে বার্তা এই উৎসব বহন করে, তা সবার জীবনে অটুট থাকুক—এমন প্রত্যাশাই ভক্তদের।




