যৌবন মানুষের জীবনের অত্যন্ত মূল্যবান একটি সময়। এ সময়ে মানুষের শারীরিক শক্তি, কর্মক্ষমতা ও চিন্তাশক্তি থাকে সবচেয়ে সক্রিয়। ইসলামে এই সময়কে শুধু ভোগ-বিলাসে কাটানোর পরিবর্তে আল্লাহর ইবাদত, সৎকর্ম ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শক্তি ও দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেছেন।
সুরা রুমের ৫৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে দুর্বল অবস্থা থেকে সৃষ্টি করেন, পরে শক্তি দান করেন এবং একসময় আবার দুর্বলতা ও বার্ধক্য ফিরিয়ে দেন। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, যৌবন কেবল আনন্দ-উল্লাসের সময় নয়; বরং এটি দায়িত্ববোধ, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতা গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। হাদিসে এমন যুবকের বিশেষ মর্যাদার কথা বলা হয়েছে, যার জীবন আল্লাহর ইবাদতের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে। কিয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহর আরশের ছায়া লাভকারী সাত শ্রেণির মানুষের মধ্যে এই যুবকও অন্তর্ভুক্ত। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৬০) ইতিহাসেও অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে যুবকদের সাহসী ভূমিকার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে।
নবী ইবরাহিম (আ.) নিজ গোত্রের মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। একইভাবে ঈমান রক্ষার জন্য সমাজ ছেড়ে আশ্রয় নেওয়া আসহাবে কাহফের যুবকদের কথাও পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা কাহফের ১৩ নম্বর আয়াতে তাঁদের দৃঢ় ঈমানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। যৌবনের আবেগ কখনো কখনো মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। এ কারণে আত্মসংযম ও নৈতিক জীবনযাপনের ওপর ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সামর্থ্যবান যুবকদের বিয়ের এবং যাঁদের সামর্থ্য নেই তাঁদের রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৫) পোশাক-পরিচ্ছদ ও ব্যক্তিগত আচরণেও সংযমের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পুরুষের জন্য স্বর্ণের অলংকার ব্যবহারের বিষয়ে ইসলামী বিধান রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হাদিসের বর্ণনা ও ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশের আগে মূল সূত্র যাচাই করা প্রয়োজন। যৌবন এমন একটি সময়, যখন নিয়মিত ইবাদত, জ্ঞান অর্জন, সৎকাজ এবং মানুষের উপকার করার সুযোগ বেশি থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই এই সময়কে অবহেলায় নষ্ট না করে ভালো কাজে ব্যবহার করা জরুরি। হাদিসে কিয়ামতের দিন মানুষের জীবন, যৌবন, সম্পদ ও অর্জিত জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের কথা এসেছে। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৪১৬) তাই তরুণদের উচিত মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে ইবাদত, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসা। ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিকতা চর্চা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন অবস্থান সমাজকে আরও সুন্দর ও নিরাপদ করে তুলতে পারে।




