৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুথানের পরও দেশ এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: গণমাধ্যম কর্মীদের দায়িত্ব, ত্যাগ ও দুঃসাহসিক স্মৃতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।


ফরিদা আখতার বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশ সাময়িকভাবে স্বৈরাচারমুক্ত হলেও কাঠামোগতভাবে এখনো ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়নি। কারণ আমরা এখনো ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামো পুরোপুরি উচ্ছেদ করতে পারিনি। ফলে পুরোনো ব্যবস্থার মধ্যেই সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে।জুলাই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীদের এখনো নানাভাবে হেনস্তা ও অনলাইন বুলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে। এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।


বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আবদুল্লাহ বলেন, জুলাই আন্দোলনে মোবাইল জার্নালিস্টদের পাশাপাশি ফটো ও ভিডিও সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠ থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। তবে তৎকালীন সরকারের অনুগত কিছু সংবাদমাধ্যমের নীতি নির্ধারক বা গেট কিপাররা মাঠের সাংবাদিকদের পাঠানো সেই প্রামাণ্য ফুটেজগুলো প্রচার না করে আটকে দিয়েছিল। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, গণমাধ্যমের মূলধারা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ভেতরে এখনো পুরোনো কাঠামোর প্রভাব রয়ে গেছে। মালিকানা বা পদে পরিবর্তন আসলেও মূল ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটেনি। 


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমকর্মীদের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয় বরং দেশ ও জনগণের পক্ষে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, দ্য ডিসেন্টের সম্পাদক কদরুদ্দিন শিশির, এবি পার্টির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট জুবায়ের আহমেদ প্রমুখ।