দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত ছয় মাসের সময়সীমাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। সরকার চাইলে সেগুলো বিবেচনায় নিতে পারে।

হাসনাতের দাবি, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মোট ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে কিছু পদক্ষেপ এক মাসের মধ্যে, কিছু ছয় থেকে ১৮ মাসের মধ্যে এবং বাকিগুলো দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রস্তাবে ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সংগ্রহ, জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি এবং দুর্যোগ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বড় টিম থাকার পরও বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় না আসায় হতাশা প্রকাশ করেন হাসনাত। তিনি সরকারের নীতিনির্ধারণী সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, গত কয়েক মাসে ব্যাপক পদায়নের ফলে অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফল হিসেবে জ্বালানি সংগ্রহ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও দুর্যোগ-পরবর্তী পরিকল্পনায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মহেশখালীর এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাতেও স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তার মতে, ঘটনাটি দুর্ঘটনা, অবহেলা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা স্পষ্ট হওয়া দরকার।এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

হাসনাতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা সরাসরি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। ক্রেতা ও বিক্রেতা নিজেদের মধ্যে মূল্য নির্ধারণ করবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ করা যাবে।

তিনি বলেন, নীতিটি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বিষয়গুলো দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব। এ জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর ছয় মাসের সময়সীমা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, বিরোধী দলের প্রস্তাব ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। এখন সরকারকে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে সেটিকে সরকারের সক্ষমতার ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের দায় সরকারকেই নিতে হবে—এমন বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, সমাধানের প্রস্তাব বিরোধী দলের হাতে থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষমতা সরকারের হাতে।