বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সংঘাত ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে এর গভীর কারণ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। তিনি মনে করেন, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ডে মূল্যায়ন করলে সংকট আরও জটিল হবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আব্দুল কাদের বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো একই ধারাবাহিক সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। একটি ঘটনাকে প্রতিরোধ এবং অন্যটিকে হামলা হিসেবে ব্যাখ্যা করা রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে, কিন্তু এতে দীর্ঘমেয়াদে কোনো সমাধান আসবে না।

তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে নতুন ধরনের ছাত্ররাজনীতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তিনি ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেছিলেন। সে সময় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে সমালোচনা করায় তাকে নানাভাবে আক্রমণ ও চরিত্রহননের শিকার হতে হয়েছে। তবুও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

আব্দুল কাদেরের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের ছাত্ররাজনীতিকে নতুনভাবে সাজানোর একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থী ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস গঠনের পরিবর্তে অনেকেই সেই সুযোগকে নিজেদের সাংগঠনিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপক্ষকে দমন করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ফলে প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার বদলে বিভিন্ন ছাত্রনেতার উসকানিমূলক বক্তব্য ও প্রতিরোধের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। তার মতে, সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলোর উচিত আলোচনার মাধ্যমে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ প্রতিষ্ঠা নয়।

পোস্টের শেষ অংশে আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্রসংসদ চাইলে চলমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। তবে অনেক ক্ষেত্রেই ছাত্রসংসদ নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দলীয় অবস্থানের বাইরে যেতে পারেনি। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সব পক্ষের আলোচনায় বসাই সংকট উত্তরণের একমাত্র কার্যকর পথ।